শবে কদরে যে দোয়া পড়তে বলেছেন নবীজি (সা.)

শবে কদর বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ রাত। রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে রাতটি খুঁজতে বলেছেন প্রিয়নবী (সা.)। তবে আমাদের দেশে অনেকের কাছে ২৬ রমজান দিনগত রাত শবে কদর হিসেবে পরিচিত। যদিও এই রাত শবে কদর হওয়ার নিশ্চিত কোনো আলামত নেই। তবুও এই রাতের ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম ও হাদিসবিশারদদের বিভিন্ন মত থাকার কারণে অবহেলা করারও কোনো সুযোগ নেই।

স্বাভাবিকতই রমজানের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। রোজা অবস্থায় যে দোয়া করা হয়, তা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। নবী (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া অগ্রাহ্য করা হয় না (বরং কবুল করা হয়); পিতার দোয়া, রোজাদারের দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া।’ (বায়হাকি, হাদিস : ৩/৩৪৫; সিলসিলাতুস সহিহা, আলবানি : ১৭৯৭ )

আরও পড়ুন:  ঈদের ছুটি এক দিন বেড়েছে

যে দোয়া বেশি করবেন

তাই রমজানে বেশি বেশি দোয়া করা চাই। বিশেষত শেষ দশকের দিনগুলোতে। যাতে করে রমজানের কল্যাণ ও সৌভাগ্য অর্জন হয়। কোনোভাবেই তা হাতছাড়া করা উচিতন নয়।

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- হে আল্লাহর রাসুল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর— তাহলে তখন কোন দোয়া পড়বো? তখন তিনি বললেন, তুমি বলো—

اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ كريمٌ تُحِبُّ العفْوَ، فاعْفُ عنِّي

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিম; তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩)

যে আমলটি অবশ্যই করা উচিত

আরও পড়ুন:  পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

বিশেষ করে ওই দিন মাগরিব ও এশার নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করা উচিত। তাহলে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী শবে কদরের ফজিলত লাভ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ে, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৬)

শবে কদরে আরও যে আমল করতে পারেন

দুই ব্যক্তির বিরোধ বা কোনো পরিবারের পারস্পরিক ঝগড়াবিবাদ মিটিয়ে দেওয়া শবে কদরের অন্যতম ইবাদত। উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল (সা.) ‘লাইলাতুল ক্দর’ এর ব্যাপারে খবর দিতে বের হলেন। এ সময় দু্ইজন মুসলমান ঝগড়া করছিলেন। তখন নবী কারিম (সা.) বললেন, ‘আমি আপনাদের ‘লাইলাতুল কদর’ এর ব্যাপারে অবহিত করতে বের হয়েছিলাম। কিন্তু অমুক অমুক ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হওয়ায় তা (সেই জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশা করি, উঠিয়ে নেওয়াটা আপনাদের জন্য বেশি ভালো হয়েছে। আপনারা সপ্তম (২৭ তম), নবম (২৯ তম) এবং পঞ্চম (২৫ তম) তারিখে এর সন্ধান করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *