বাড়তি ডিজেল চেয়ে ভারতকে বাংলাদেশের চিঠি

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির তেল সরবরাহের পাশাপাশি ভারত থেকে বছরে বাড়তি ৫০ হাজার টন ডিজেল জ্বালানি আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। সপ্তাহজুড়ে আলোচনার পর আজ বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে সরকার।

২০২৩ সালের মার্চে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন উদ্বোধন করা হয়। বছরে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরে এই পাইপলাইন ব্যবহার করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করার কথা রয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে পাইপলাইন হয়ে ১৫ হাজার টন ডিজেল আসছে।

আরও পড়ুন:  পারস্পরিক বোঝাপড়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে যাবে: প্রণয় ভার্মা

আজ বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আপৎকালীন অবস্থার জন্য আমরা বলেছি আমাদের ডিজেল সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এখন তারা সিদ্ধান্ত নেবে, কতখানি বাড়াবে।’

প্রণয় ভার্মা জানান, ‘জ্বালানি-সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছে। এই চিঠি ভারত সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের যৌথ স্বার্থগুলো নিয়ে আলাপ হয়েছে। কীভাবে সহযোগিতা বাড়িয়ে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি, সেসব আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহায়তা আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই সম্পর্ক কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেসব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:  ‘পরিস্থিতি উন্নতি হলে বাংলাদেশে ভারতীয় সব ভিসাকেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত হবে’

গত রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *