ঢাবিতে ভোররাতে নারীকে ‘হেনস্তার’ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্য এলাকায় দুই নারীকে ‘হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত’ করার ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

আজ বুধবার ভোররাতে টিএসসিতে ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্তদের একজনকে বাঁশের লাঠি হাতে এক নারীকে লাথি মারার চেষ্টা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে প্রক্টরিয়াল টিম আসলে ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে আসে। ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি মঙ্গলবার তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করে চার শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, দুই নারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলছেন। এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমরা সেফ না। ৫ আগস্টের পরও আমরা সেফ না। ভার্সিটির ছেলেরা আমাদের ধরে মারে। আমাদের ড্রেসে নাকি লেখা আছে প্রস্টিটিউট।’

আরও পড়ুন:  মহেশখালী-মাতারবাড়ীতে নতুন শহরের জন্ম হবে: প্রধান উপদেষ্টা

তিনি আরও বলেন, নাজিরাবাজারে সেহরি খেয়ে তারা টিএসসিতে এলে তাদের সঙ্গে থাকা রাইডারকে চড় মারা হয় এবং তাদের ‘প্রস্টিটিউট’ বলে গালাগাল করা হয়।

আরেক নারী বলেন, ‘সে আমাকে চড় মারল কেন? ঢাবির একজন শিক্ষার্থী আমাকে মারবে কেন? আমি কি এখানে আসতে পারব না?’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শাহরিয়ার ইসলাম তুষার এবং বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও জিয়া হলের আবাসিক রাকিব আহমেদ সোহান।

অভিযোগ অস্বীকার করে শাহরিয়ার বলেন, নারীদের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হলেও তিনি কোনো নারীর গায়ে হাত তোলেননি।

তিনি বলেন, “সেহরি খেয়ে ফেরার পথে টিএসসিতে এক নারী ও এক পুরুষকে ‘অশালীন’ অবস্থায় দেখেন এবং তাদের আচরণে নেশাগ্রস্ত মনে হওয়ায় পরিচয় জানতে চান। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই পুরুষের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।”

আরও পড়ুন:  রাবিপ্রবিতে ”এ” ইউনিটের পরীক্ষায় উপস্থিতির হার প্রায় ৭৬ শতাংশ

তিনি বলেন, ‘ধস্তাধস্তির পর ওই নারী বারবার আমার দিকে তেড়ে আসছিলেন। আমি তাকে মারধর করিনি। হাত দিয়ে সরাতে গেলে তিনি দাবি করেন আমি তাকে চড় মেরেছি।’

অপর অভিযুক্ত রাকিব বলেন, হাতে বাঁশের লাঠি হাতে থাকলেও তিনি কাউকে আঘাত করেননি। তারা টিএসসিতে বসে থাকাকালে অপর পক্ষের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় জানতে চান তারা কোথা থেকে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের দলে পাঁচজন ছিল এবং তারা নেশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল। আমরা ছিলাম দুজন, তাই তারা আমাদের সঙ্গে আগ্রাসী আচরণ করে। এক পর্যায়ে প্রক্টরিয়াল টিম এলে আমি একটি বাঁশের লাঠি তুলে নিই, তবে কাউকে আঘাত করিনি।’

প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে নারীদের লাঠি দিয়ে পেটানোর স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে একজন পুরুষকে হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাত করার দৃশ্য দেখা গেছে। নারীদের আঘাত করা হয়েছে কিনা, তা আরও সতর্কভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তাদের লাঠি তুলতে দেখা গেছে, কিন্তু সরাসরি নারীদের পেটানোর স্পষ্ট ফুটেজ এখনো দেখিনি।’

আরও পড়ুন:  পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বড় রদবদল

প্রক্টর আরও জানান, ভুক্তভোগী নারীরা নিজেরা লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে তাদের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি—যাদের একজন নিজেকে রাইডার এবং অন্যজন নারীদের শৈশবের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রক্টর দপ্তরে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেহরির পর চা খাওয়ার জন্য টিএসসিতে দাঁড়িয়ে থাকাকালে কয়েকজন যুবক তাদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন, পরে মৌখিকভাবে গালাগাল ও হেলমেট দিয়ে হামলা চালান এবং দুই নারীকে আঘাত করেন।

প্রক্টর বলেন, তদন্ত কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + 11 =