দেশে পৌঁছেছে ১ লাখ ৪০ হাজার প্রবাসী ভোটারের পোস্টাল ব্যালট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটগুলো এখন নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬৩ জন প্রবাসী ভোটারের পোস্টাল ব্যালট দেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাতে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রকল্পের দেওয়া বিস্তারিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত প্রবাসীদের ঠিকানায় সর্বমোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৭ জন প্রবাসী ভোটার সফলভাবে তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮৭ জন ভোটার ইতিমধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোট দেওয়ার পর ৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬৪ জন প্রবাসী ভোটার সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন, যা ডাকযোগে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম বড় কিস্তি হিসেবে ১ লাখ ৩৯ হাজারেরও বেশি ব্যালট এখন কমিশনের হাতে রয়েছে।

আরও পড়ুন:  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্যাম্পেইন শুরু

প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত যেসব সরকারি কর্মকর্তা বা অন্যান্য ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও সমানতালে চলছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে দেশের ভেতরে (আইসিপিভি) নিবন্ধনকারী ২ লাখ ৬৯ হাজার ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ৩ হাজার ৭৪৮ জন ভোটার তাদের ব্যালট পেপার গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২২ জন ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন এবং ১ হাজার ১৪৯ জন ভোটার তাদের পূরণ করা ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।

সালীম আহমাদ খান আরও জানান, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দেওয়ার জন্য দেশ এবং বিদেশ মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবাসীদের এই বিশাল অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, বাকি ব্যালটগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে পৌঁছে যাবে এবং সেগুলো নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *