১,০১০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার পথে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’

ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশন থেকে ১,০১০ জন যাত্রী নিয়ে “কক্সবাজার এক্সপ্রেস” ট্রেনটি ছেড়ে যায়।

কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনের মাস্টার গোলাম রব্বানী বলেন, ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এই রেলপথে এটিই প্রথম বাণিজ্যিক ট্রেন।

এই রেলযাত্রা কক্সবাজারসহ বৃহত্তর দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘকালের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিলো। ট্রেন চলাচল ঘিরে কক্সবাজারের স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ট্রেন চলাচল শুরুর খবরে সকাল থেকেই যাত্রী ও দর্শনার্থীদের আগমনে মুখর ছিল স্টেশন প্রাঙ্গণ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, কক্সবাজার থেকে ঢাকা যেতে ট্রেনটির ৮ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লাগার কথা। যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি পুনরায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।

আরও পড়ুন:  ১১৬ জুয়ার সাইট বন্ধে বিটিআরসিতে সিআইডির চিঠি

নতুন এ রেলপথে চলাচলকারী ট্রেনটির নামকরণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে ছয়টি নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই ছয়টি নাম থেকে প্রধানমন্ত্রী ট্রেনটির নাম “কক্সবাজার এক্সপ্রেস” হিসেবে চূড়ান্ত করেন।

এরই মধ্যে আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার থেকে ঢাকার টিকিট বিক্রি শেষ বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

আইকনিক রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানী বলেন, এক সপ্তাহ আগে থেকে অনলাইন ও অফলাইনে সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। এখন শুধু ৯ ডিসেম্বরের পরের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ২০ বগিতে আসন সংখ্যা ৭৮০টি। প্রায় ১ হাজার যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি যাত্রা করবে। চাহিদা বাড়লে বগিও বাড়ানো হবে।

এই রেলযাত্রা পরিদর্শনে এসেছিলেন রেল সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাণিজ্যিকভাবে রেল চলাচল শুরু হলো। আন্তঃনগর এই ট্রেন ২০টি বগি নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকা ও ঢাকা থেকে কক্সবাজার চলাচল করবে। চাহিদা বাড়লে বগিও বাড়ানো হবে।”

আরও পড়ুন:  নারী উন্নয়নে নবজাগরণ ঘটেছে বাংলাদেশে : প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে ট্রেনটিতে কোনো কেবিন সুবিধা নেই। এসি শোভন কোচে চেয়ার থাকবে পর্যাপ্ত। জানুয়ারি থেকে আরও কয়েকটি ট্রেন চালু হবে। তবে আপাতত লোকাল ট্রেন চালু হচ্ছে না।”

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার এক্সপ্রেস চট্টগ্রামে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে এবং ঢাকায় পৌঁছবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে। পর্যটন শহর থেকে রাজধানী ঢাকা যেতে সময় লাগবে ৮ ঘণ্টা ১০ মিনিট। কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯৫ টাকা, এসি চেয়ারের ভাড়া ১,৩২৫ টাকা, এসি সিটের ১,৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ২,৩৮০ টাকা।

চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুনে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয় প্রায় ১৮,০৩৪ কোটি টাকা। গত ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার-দোহাজারী রেলপথে ট্রেন চলাচল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 3 =