যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষার ও শীতকালীন ঝড়ের শঙ্কা, ১০ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি অঞ্চল জুড়ে বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত ও ভয়ংকর শীতকালীন ঝড় আঘাত হানতে যাচ্ছে। এই ঝড় থেকে রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাত ও মারাত্মক বরফ জমার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শুরু হওয়া এই ঝড় আগামী সোমবার পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। টেক্সাস থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ মাইল এলাকায় এক ফুট বা তার বেশি তুষারপাত এবং ভয়াবহ বরফ জমতে পারে। ঝড়ের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শনিবারের জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৩০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ার মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় শহরগুলোতে গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তুষারপাত হতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে মারাত্মক বরফঝড়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দক্ষিণ রকি পর্বতমালা ও সমভূমি অঞ্চল থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ১৬ কোটির বেশি মানুষ শীতকালীন ঝড় বা বরফঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছে।

আরও পড়ুন:  মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ পুণ্যময় ঐতিহ্য

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঝড়ের পুরো এলাকায় সড়ক ও আকাশপথে বড় ধরনের যোগাযোগ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে বরফ জমে গাছ ও বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতির কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে। গত কয়েক দিনে ঝড়ের গতিপথ কিছুটা উত্তরের দিকে সরে গেছে। এতে মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা বেড়েছে, একই সঙ্গে দক্ষিণের বড় অংশে ধ্বংসাত্মক বরফঝড়ের আশঙ্কা রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, ঝড়ের পথে সামান্য পরিবর্তন হলেও কোনো কোনো এলাকায় তুষার, শিলাবৃষ্টি বা বরফ জমার মাত্রা নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে।

এই ঝড়ের সবচেয়ে বড় বিপদ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফ্রিজিং রেইন বা বরফবৃষ্টি। এতে রাস্তা, গাছ ও বিদ্যুৎ লাইনে পুরু বরফ জমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর ও পূর্ব টেক্সাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, টেনেসি ভ্যালি, উত্তর জর্জিয়া, ক্যারোলাইনা এবং ভার্জিনিয়ার কিছু অংশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ডালাস, ফোর্ট ওর্থ, শ্রিভপোর্ট, টুপেলো, গ্রিনভিল ও শার্লটের মতো বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন:  দ. আফ্রিকার কাছে হারের পর মাহমুদউল্লাহর আবেগঘন বার্তা

ঝড়ের বরফঝড় অঞ্চলের উত্তরে বিস্তৃত এলাকায় ভারী তুষারপাত হতে পারে। ওকলাহোমা ও কানসাস থেকে শুরু করে ওহাইও ভ্যালি, মধ্য আটলান্টিক অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বহু অঙ্গরাজ্যে ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও এক ফুটের বেশি তুষার জমতে পারে।

ঝড়ের আগে মিসৌরি, আর্কানসাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, টেনেসি, আলাবামা, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়াসহ অন্তত ১০টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নর জশ স্টেইন বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জর্জিয়ায় সাত দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং ৫০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

টেক্সাসে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ১৩৪টি কাউন্টিতে দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন, যাতে অতিরিক্ত সহায়তা দ্রুত দেওয়া যায়।

আরও পড়ুন:  আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগীয় মতবিনিময় সভা বৃহস্পতিবার

ঝড়ের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আর্কটিক শৈত্যপ্রবাহও যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশে ছড়িয়ে পড়বে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি নিচে নেমে যেতে পারে। কোথাও কোথাও দৈনিক সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙতে পারে।

শিকাগো ও আইওয়ার ডেস মইনেসে তীব্র শীত ও ভয়ংকর বাতাসের কারণে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওর্থ এলাকায় তাপমাত্রা এক অঙ্কে নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝড় ও তীব্র শীত মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে এবং এর প্রভাব আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *