নির্দিষ্ট ৩ বিমানবন্দর ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে না বাংলাদেশিরা

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত প্রদানকারী দেশের তালিকায় নতুন করে বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। 

৬ জানুয়ারি প্রকাশিত এই হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ক্যাটাগরি ভেদে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের জন্য এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তাঁর ওপর এই বন্ডের শর্তারোপ করতে পারবেন। মূলত ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান বা ‘ওভারস্টে’ করার প্রবণতা কমিয়ে আনতেই এই পাইলট প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে।

ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এই বন্ড প্রদানকারী যাত্রীরা কেবল বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD) দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:  ট্রাফিকের দায়িত্ব থেকে শিক্ষার্থীদের সরে যাওয়ার আহ্বান

এই নির্ধারিত তিনটি বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে তা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এছাড়াও অন্য বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাঁধা দেওয়া হতে পারে। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে তিনটি ধাপে— ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং ১৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তা ঠিক করবেন।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জামানত একটি ফেরতযোগ্য অর্থ। যদি ভ্রমণকারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণ না করেন কিংবা বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পান, তবে তিনি এই অর্থ ফেরত পাবেন। তবে যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অন্য কোনো স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন, তবে তাঁর জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত

বন্ডের অর্থ ‘Pay.gov’ নামক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ এই তালিকায় রয়েছে, যার মধ্যে আলজেরিয়া, কিউবা, নেপাল ও ভুটানের মতো দেশগুলোও অন্তর্ভুক্ত। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভ্রমণ যেমন ব্যয়বহুল হবে, তেমনি ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *