পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার বেলা ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলাটি পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে এবার পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মেলার সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশি পণ্যের প্রচার ও বিদেশের বাজারে রপ্তানি বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ইপিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাধারণত প্রতি বছর ১ জানুয়ারি বাণিজ্যমেলা শুরু হওয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য থাকলেও এবার তা দুই দিন পিছিয়ে ৩ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত তিন দিনের জাতীয় শোকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মেলার শুরুর তারিখ পরিবর্তন করা হয়। এবারের আসরে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার মোট ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল এবং রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে দেশীয় নামী-দামী রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। মেলাটি আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এবারের বাণিজ্যমেলায় পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং মেলা প্রাঙ্গণে সব ধরনের পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে দর্শকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবেশবান্ধব বস্ত্র ও পাটের ব্যাগ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির পক্ষ থেকে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট, নারায়ণগঞ্জ এবং নরসিংদী থেকে ২০০টিরও বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে মেলা প্রাঙ্গণ অভিমুখে চলাচল করবে। ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক মেলাটি বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক উৎসবে পরিণত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন যে, আধুনিক যাতায়াত ও সুন্দর ভেন্যুর কারণে এবার দর্শনার্থীদের ভিড় গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।







