জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৮০-৩০০ জনকে যাচাই করা হচ্ছে: ডিসি হারুন

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে জড়ো হওয়া আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় জাসদের প্রধান কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাসদ কার্যালয় এলাকায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী রয়েছেন।

ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা কোনো উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো অসৎ উশ্যেদ্দে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহায়তা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা কী উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন মর্মে পুলিশের কাছে কিছু তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া তারা আরও কোনো কর্মকাণ্ড করেছেন কি না এবং কেন সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন, সেসব বিষয়ও যাচাই করা হবে।’

আরও পড়ুন:  ফেরদৌস, শাওন, আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনের কাছাকাছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি সঠিক সংখ্যা বলতে পারেননি।

ডিসি হারুন বলেন, ‘তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পুরো ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করার স্বার্থে আমরা তাদের থানায় নিয়ে যাচ্ছি। যাচাই-বাছাই করে যার যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের নামে মামলা হবে বা আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের ক্ষেত্রে অন্য যে প্রক্রিয়া আছে, সে প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।’

সেখানে সাংবাদিক বা অন্য কোনো পেশার মানুষ আটক হয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেখানে সাংবাদিকসহ অন্য কোনো পেশার মানুষ আছেন কি না, পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন:  গুলিস্তান থেকে শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আটক

তাদের সেখানে জড়ো হওয়ার কোনো অনুমতি ছিল কি না জানতে চাইলে ডিসি হারুন বলেন, ‘বিষয়টি প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনাটি পল্টন থানার আওতাধীন হওয়ায় তদন্তের সুবিধার্থে প্রয়োজন হলে তাদের আশপাশের কোনো থানায় রাখা হতে পারে।’

এদিকে, আজ বিকেলের দিকে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেন, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ‘সারাদেশ থেকে আমাদের প্রতিনিধি সভায় নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছে। সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আমরা অফিসে অবরুদ্ধ আছি। পুলিশ আসছে, হয়তো অ্যারেস্ট করবে।’

জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এটা মিথ্যা কথা, আমাদের প্রতিনিধি সভা চলছিল। এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসবে কেন, একটা কিছু বলে আমাদের ওপর আক্রমণ করাটাই বিষয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + fifteen =