তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত এমপি বললেন ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে ওই তরুণীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সংসদ সদস্য।

গাজী নজরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর শুরা সদস্য। এর আগে তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে একই আসন থেকে জামায়াতের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সোমবার রাতে ‘প্রতিবাদী কন্ঠস্বর’ নামে এক ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কয়েকটি অংশে দেখা যায়, ওই নারীর সঙ্গে নজরুল ইসলাম একটি কক্ষে অবস্থান করছেন। তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ভিডিওর ওই তরুণী সম্প্রতি চাকরির জন্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই তরুণীর সিভির একটি ছবি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে এমপির সুপারিশ রয়েছে। গত ২২ জুন এমপি নজরুল সেই সিভিতে সই করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে উদ্দেশ্য করে তিনি সেটিতে লিখেছেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য জোর সুপারিশ করছি’।

আরও পড়ুন:  জাতিসংঘ পুলিশের কাজে অবদান বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর শুরুতে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল থেকে দাবি করা হয়, সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা। তবে তথ্য যাচাইকারী একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান অনুসন্ধানে জানিয়েছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, সেটি ঘটনার প্রকৃত ভিডিও।

শ্যামনগর উপজেলা জামায়াত আমির মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন। এর বাইরে আমার কোনো বক্তব্য নেই।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

তবে মঙ্গলবার সকালে গাজী নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম উল্লেখ করে ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্য বলেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে যান। সেখানে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক অফিস। সেখানে তাঁরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

আরও পড়ুন:  বসন্তের সাজ যেমন হবে

জামায়াত এমপি বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক অফিসে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের কক্ষে ঢুকেন। তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন।

গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়া গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

জামায়াত এমপি বলেন, পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আরও পড়ুন:  স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে যাত্রায় পুলিশি বাধা

ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম আরও বলেন, এ বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসায় আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই। যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *