আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

নিউইয়র্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন। ২০১০ সালের পর এটি তাদের প্রথম শিরোপা জয়। পুরো ম্যাচজুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলা স্পেন নির্ধারিত সময়ে গোল না পেলেও অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পায়। ১০৬তম মিনিটে (অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ২৭ সেকেন্ডে) পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের দারুণ অ্যাসিস্টে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির মারিও গোটজের পর এবার তোরেস পঞ্চম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে গোল করে আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য দেখাতে শুরু করে লা রোজারা। প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার বল পজেশন ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ, যেখানে মেসি, গঞ্জালেজ ও আলভারেজ মিলে বল স্পর্শ করতে পেরেছেন মাত্র ১৭ বার। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠজুড়ে দাপট দেখিয়েছেন এবং ডিফেন্সেও তৃতীয় সেন্টার ব্যাকের ভূমিকা পালন করেছেন। লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল ও ফাবিয়ান রুইজরা বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণে ভীতি ছড়ালেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দৃঢ়তায় জাল অক্ষত থাকে। প্রথমার্ধে স্পেনের ৬৫ শতাংশ বল দখলের বিপরীতে আর্জেন্টিনা কোনো শটই নিতে পারেনি; উল্টো ৪১ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে রক্ষণভাগে আরও চাপ বাড়ে লিওনেল স্কালোনির দলের।

দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনি দলে পরিবর্তন এনে নিকো গঞ্জালেজের বদলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামালেও তিনি নেমেই রদ্রিকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখে দলকে মারাত্মক চাপে ফেলেন। স্পেন আক্রমণ আরও শানিত করতে পেদ্রি, ফেরান তোরেস, মিকেল মেরিনো এবং নিকো উইলিয়ামসকে মাঠে নামায়। স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণের বিপরীতে আর্জেন্টিনা এতটাই কোণঠাসা ছিল যে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট না রাখতে পারার লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখায় তারা। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অসাধারণ দক্ষতায় স্পেনের বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল রুখে দিয়ে দলকে টিকিয়ে রাখলেও, নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে (৯০+৩) কুবার্সিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন:  ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা মেসির, কী বললেন মহাতারকা

একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ৯৬ মিনিটের মাথায় বল জালে জড়িয়ে স্পেন উল্লাসে মাতলেও মেরিনো ওতামেন্দিকে ফাউল করায় ভিএআর-এর সাহায্যে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি আর্জেন্টিনার জন্য। ১০৬ মিনিটে দারুণ দলীয় বোঝাপড়ায় তোরেস বল জালে জড়ালে শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি স্কালোনির শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলা আর্জেন্টিনা নিজেদের রক্ষণ জমাট রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও স্পেনের কৌশলী এবং গতিশীল ফুটবলের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়, আর সেই সুবাদেই বিশ্ব ফুটবল পেয়ে যায় তাদের নতুন চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *