তীব্র তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ডে ২৭০০ মানুষের মৃত্যু

তীব্র তাপপ্রবাহে গত মে ও জুন মাসে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অন্তত ২ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

সোমবার প্রকাশিত ওই গবেষণায় ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর (মেট অফিস) এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য তুলে ধরেছেন। খবর এএফপির।

আবহাওয়ার তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং তাপপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত মৃত্যুর হার সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণা বিশ্লেষণ করে তারা এই অনুমান নির্ধারণ করেছেন।

মে ও জুন মাসে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বেশিরভাগ অঞ্চলে নজিরবিহীন দুটি তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। ওই সময় ইংল্যান্ডে মাসিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে মে মাসে ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুনে ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

আরও পড়ুন:  লক্ষাধিক নতুন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জাতিসংঘের

গবেষণায় আবহাওয়া অফিসের জলবায়ু বিশ্লেষণ দলের বিজ্ঞান ব্যবস্থাপক মার্ক ম্যাকার্থির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের সব অঞ্চলের জন্যই এগুলো ছিল চরম মাত্রার তাপপ্রবাহ। বিশেষ করে বছরের শুরুর দিকে এবং এই সময়ে এমন তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়া ছিল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ঘটনা।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহের মৃত্যুর সরকারি তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে আগামী সপ্তাহগুলোতে তাপজনিত মৃত্যুর আনুমানিক হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে।

সোমবার প্রকাশিত গবেষণায় ব্যবহৃত মডেলগুলো চরম তাপের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকির মাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের সুস্থতার জন্য যে ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে, তা তুলে ধরতে সহায়তা করে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার (ইউকেএইচএসএ) সেন্টার ফর ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ সিকিউরিটি-এর প্রধান লিয়া বেরাং ফোর্ড।

আরও পড়ুন:  গরম আরও বাড়বে, ঢাকাসহ ২৩ জেলায় তাপপ্রবাহ

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২১ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত তীব্র গরমের কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ৫৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ১৮ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে তাপপ্রবাহের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ মানুষ।

গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও ঘনঘন হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব না থাকলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বর্তমানের তুলনায় ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকত।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা সংস্থা ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি (সিসিসি) গত বছর সতর্ক করে বলেছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য এখনও ‘প্রস্তুত নয়’।

আরও পড়ুন:  লন্ডনে পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া

গত মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০৫০ সালের মধ্যে ব্রিটেনের প্রায় ৯২ শতাংশ বাড়ি অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সীমা নির্ধারণ এবং হাসপাতাল ও স্কুলের মতো সরকারি ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনে বিনিয়োগের জন্য সরকারকে সুপারিশ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five + sixteen =