দেশজুড়ে টানা ভারি বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে ১০টি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ ও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের এসব প্রস্তুতির তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
সালেহ শিবলী আরও জানান, শুধু স্থানীয় প্রশাসনই নয়, বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দলের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও অতি দ্রুত দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে এবং তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক তদারকি ও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও দ্রুত উদ্ধার কাজ সচল করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্যোগ ও নির্দেশনা:
সার্বক্ষণিক মনিটরিং: প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।
আশ্রয়কেন্দ্র চালু: চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এরইমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। যেখানে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
জরুরি রসদ সরবরাহ: দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনী মোতায়েন: জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ে উদ্ধার কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনী মোতায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি: প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় সশরীরে মানুষের পাশে অবস্থান করছেন।
দলীয় নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততা: রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও প্রতিটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে মাঠে নামার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড একযোগে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পরিদর্শন: এই দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পরিদর্শন করছেন।
রেলপথ উঁচু করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে এটি ভবিষ্যতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দ্রুতই এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।’







