মহান স্রষ্টা যখন কোনো মহৎ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠান, তখন তাকে পাঠান জাতির কল্যাণে, গোটা মানবতার আলোকবর্তিকা হিসেবে। এমনই এক মহাপ্রাণ, সফল শিক্ষাবিদ, সফল উদ্যোক্তা, সত্যবাদী, কর্তব্যনিষ্ঠ, নীতিবান, পরিশ্রমী এবং পরম আদর্শবাদী মানুষের নাম প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী। তিনি বাংলাদেশের বাণিজ্য শিক্ষার পথিকৃৎ, এক আলোকিত সমাজ গঠনের নিরলস কারিগর।
[জন্ম ও বাল্যজীবন]
১৯৪১ সালের ১৫ মে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া গ্রামের কাজী বাড়িতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা কাজী নূর মোহাম্মদ ছিলেন চাকুরিজীবী, মাতা জয়নব বানু ছিলেন গৃহিণী। বাবা চাকরির কারণে বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকতেন, সংসারের পুরো দায়িত্ব বইতেন মা। নিরক্ষর হয়েও জয়নব বানু ছিলেন স্বশিক্ষিতা, অসামান্য কর্মস্পৃহা আর ন্যায়পরায়ণতার অধিকারী এক নারী। গ্রামের মা-বোনেরা নানা বিষয়ে তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসতেন। ছেলেকে পড়াশোনায় প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, তাই সারাক্ষণ উৎসাহ দিতেন, প্রয়োজনে শাসনও করতেন। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া ছিল বাধ্যতামূলক, একদিনও স্কুল কামাই করা যেত না। একদিন স্কুল পালিয়ে পাড়ার ছেলেদের সাথে মাছ ধরে ঘরে এনে প্রফেসর ফারুকী ভেবেছিলেন মা দেখে খুশি হবেন। কিন্তু মা রাগে মাছগুলো বাগানে ফেলে দিয়ে কঠোরভাবে বারণ করে দিলেন- কোনোদিন পড়া ফেলে এমন কাজ করা যাবে না। প্রফেসর ফারুকী সবসময় বলেন, “আজ আমার এতদূর আসার পেছনে মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি।” সাত ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ কাজী ফারুকী শৈশব থেকেই ছিলেন সহজ-সরল ও কোমল স্বভাবের। সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা এবং স্রষ্টা ও ধর্মের প্রতি অটল বিশ্বাস তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছিল ছোটবেলা থেকেই। ছাত্রজীবনে অযথা সময় নষ্ট করতেন না কখনো, তবে বই ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী, যেখানেই যেতেন সঙ্গে থাকত বই।
[পারিবারিক জীবন]
প্রফেসর কাজী মো. নুরুল ইসলাম ফারুকী ১৯৬৯ সালের ৪ মে লালমাটিয়া নিবাসী বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মরহুম আসাদুল্লাহ সাহেবের বড় মেয়ে শামছুন নাহারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর শ্বশুর মরহুম আসাদুল্লাহ সাহেব ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারি রেজিষ্ট্রার। শামছুন নাহার ফারুকী লালমাটিয়া মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বেশ কয়েকটি বই রচনা করেছেন, যার মধ্যে ‘আধুনিক গার্হস্থ্য অর্থনীতি নীতিমালা’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিনি পরীক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেন।
দাম্পত্য জীবনে সুখী এই দম্পতি তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক-জননী। সন্তানেরা প্রত্যেকেই পিতা-মাতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিভার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। বড় মেয়ে ডাঃ কাজী সালমা বিনতে ফারুকী (MBBS, MPhil) বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফিজিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। একমাত্র ছেলে প্রফেসর ডাঃ কাজী মোঃ নূর-উল ফেরেদৌস (MBBS, MS) বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু ও নবজাতক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক। মেজ মেয়ে প্রফেসর কাজী সায়মা বিনতে ফারুকী (MCom, MBA) ঢাকা কমার্স কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক। ছোট মেয়ে ড. কাজী নাঈমা বিনতে ফারুকী (PhD) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজির (BUBT) হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তাঁর বড় জামাতা ডাঃ আহসানুল হক আমিন (MBBS, MD) এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকার ডায়াবেটোলজি ও এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট। পুত্রবধূ ডাঃ রিফাত রশিদ (MBBS, MS) ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট এন্ড হাসপাতালের অকুলোপ্লাস্টি ও অরবিট বিভাগের কনসালটেন্ট। মেজ জামাতা আহমেদ মাসুদুল হক (MCom, MBA) এসিআই বাংলাদেশ লিমিটেডে কর্মরত। ছোট জামাতা মরহুম আশরাফুল হক আমিন (FCA) ওয়ান ব্যাংকের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO) হিসেবে কর্মরত ছিলেন (আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন, আমিন)।
প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী দম্পতি আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে অত্যন্ত আন্দময় জীবন যাপন করছেন। একজন আদর্শ শিক্ষকের মতো তিনি সবসময় ছাত্রদের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নৈতিকতা শিক্ষা ও মানবিক গুণাবলীর বিকাশের দিকে নজর দিতেন।
[শিক্ষাজীবন]
ধর্মীয় শিক্ষার হাতেখড়ি গ্রামের মক্তব ও মায়ের কাছ থেকে। পাঁচ-ছয় বছর বয়সে দক্ষিণ চরমোহনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৯৬১ সালে দালাল বাজার এন. কে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন (বর্তমান এসএসসি) এবং ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট (বর্তমান এইচএসসি) পাস করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম (অনার্স) এবং ১৯৬৮ সালে এম.কম সম্পন্ন করেন। ছেলেবেলায় প্রবল ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হবেন, দেশ ও দশের সেবা করবেন। মেডিকেল কলেজেও ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু বাবা ও বড় ভাই মরহুম প্রফেসর আখতারুজ্জামান সাহেবের নির্দেশে বাণিজ্য শিক্ষায় এসে পড়েন। ১৯৬৯ সালে সরকারি কর্ম কমিশন পরীক্ষায় (বর্তমান বিসিএস) সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করেন। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপ পেরোতে যে অক্লান্ত অনুশীলন আর ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই অবর্ণনীয়।
[প্রশিক্ষণ]
কর্মজীবনে তিনি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি মাসে ‘নায়েম’ কর্তৃক পরিচালিত প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও কর্মজীবনে বহু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং নিজেও বহু প্রশিক্ষকের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
[রেডিও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান]
শিক্ষকতা জীবনে বহুবার তিনি বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
[কর্মজীবন]
শিক্ষার মতো তাঁর কর্মজীবনও বর্ণাঢ্য ও বহু প্রশংসনীয়। ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রভাষক পদে টিএন্ডটি কলেজে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ প্রায় ৪২ বছরের শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি প্রভাষক হিসেবে লালমাটিয়া মহিলা কলেজে, প্রভাষক হিসেবে তেজগাঁও কলেজে এবং প্রভাষক হিসেবে জগন্নাথ কলেজে পাঁচ বছর অধ্যাপনা করেন। এরপর সহযোগী অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান হিসেবে ঢাকা কলেজের ডিপার্টমেন্ট অব ম্যানেজমেন্টে দীর্ঘ ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে প্রফেসর ও অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন নাগরপুর সরকারি কলেজ, টাঙ্গাইলে। এরপর চেয়ারম্যান হিসেবে কবি নজরুল সরকারি কলেজের ডিপার্টমেন্ট অব ম্যানেজমেন্টে দায়িত্ব পালন করেন। অবশেষে ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা কমার্স কলেজের এমিরিটাস প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন।
[ঢাকা কমার্স কলেজ প্রতিষ্ঠা]
প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প গড়ার ভাবনা সবসময়ই তাড়িত করত তাঁকে। কীভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়া যায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নৈতিকতা আর মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটবে- এই চিন্তা থেকেই তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, সাধনা আর দূরদর্শিতায় ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা কমার্স কলেজ। সম্পূর্ণ বেসরকারি উন্নয়ন প্রচেষ্টার ইতিহাসে ঢাকা কমার্স কলেজের জন্ম, অগ্রগতি ও প্রসারে প্রফেসর কাজী মো. নুরুল ইসলাম ফারুকী যে ভূমিকা পালন করেছেন, প্রচলিত কোনো ভাষা দিয়ে তার ব্যাখ্যা দেওয়া সত্যিই খুব কঠিন। মাত্র সাত বছরের মাথায় ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এবং ২০০২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের’ মর্যাদা লাভ করে। ৪ নভেম্বর ১৯৯৬ প্রথম বারের মতো এবং ২০০২ সালে দ্বিতীয় বারের মতো এই গৌরব অর্জন করে ঢাকা কমার্স কলেজ। এই মহতী প্রতিষ্ঠানের সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকীর। ঢাকা কমার্স কলেজের প্রতিটি ইটে মিশে আছে তাঁর ঘাম আর স্বপ্ন। তিনি সর্বদাই বিশ্বাস করতেন যে, পরিশ্রম, দূরদৃষ্টি, সততা, সুপরিকল্পনা এবং কাজ করার আগ্রহ থাকলে যে কোনো অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
[গ্রামের উন্নয়নে প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজ]
শুধু রাজধানী নয়, জন্মভূমির প্রতি টান ছিল সবসময় প্রবল। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার পশ্চিম রাখালিয়া ও চরমোহনা গ্রাম একটি বিরাট জনবহুল অঞ্চল। এ অঞ্চলে কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া তেমন কোনো ভালো মানের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ নেই, ফলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে দূর-দূরান্তে গিয়ে পড়ালেখা করে। স্কুল ও কলেজের অভাবে অনেকে প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করেই মহামূল্যবান শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে। বাংলাদেশে ব্যবসায় শিক্ষা প্রসারের পথিকৃৎ খ্যাত প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী শিক্ষার এই সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে এলাকাবাসী ও তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে অত্র অঞ্চলে একটি যুগোপযোগী ও জাতীয় মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
শুরুতে তিনি ‘প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। সেই ট্রাস্টের অধীনে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজ, এতিমখানাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি ২০১০ সালে ঈদগাহসহ ‘মসজিদ-ই বায়তুল মামুর’ নামে একটি সুসজ্জিত মসজিদ নির্মাণ করেন।
পরবর্তীতে তিনি তাঁর জন্মস্থানের দুস্থ ও গরিবসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১১ সালে স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত, নকল, ধূমপান ও রাজনীতিমুক্ত একটি জাতীয় মানের আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রায় ২.১৫ একর ভূমি সংগ্রহ করে প্রস্তাবিত ৩টি ভবনের মধ্যে ১৫৫ X ৩৩ বর্গফুট আয়তনের ছয়তলা বিশিষ্ট ১ নং অ্যাকাডেমিক ভবন ‘কাজী নূর মোহাম্মদ’ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা, যার সম্পূর্ণটাই বহন করেছে প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্ট। ২১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আরম্ভ হওয়া স্কুল ও কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী প্রায় ২৫০০ জন। পরবর্তীতে নির্মাণ করেন চারতলা বিশিষ্ট ২ নং অ্যাকাডেমিক ভবন ‘জয়নব বানু’, যেখানে বর্তমানে স্কুল শাখার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও পাঁচতলা বিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মিত হয়েছে ও চারতলা বিশিষ্ট প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান প্রাইমারি শাখা ‘কেএফএসসি শিশুকানন’ ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল শাখা চালু হয়। লক্ষ্মীপুর জেলায় যুগোপযোগী ও মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ২০২১ সালে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার নামকরণ করা হয় ‘প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি’। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড চূড়ান্তভাবে পাঠদানের অনুমোদন দেয়। বর্তমানে সেখানে ডিপ্লোমা-ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা-ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা-ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজের পাঠদান পদ্ধতি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও আধুনিক। প্রতিটি ক্লাস এক ঘণ্টা করে নেওয়া হয়, যার প্রথম ১৫ মিনিট পূর্ববর্তী দিনের পড়া আদায়, পরবর্তী ৩০ মিনিট কোর্সপ্ল্যান অনুযায়ী নতুন পাঠদান এবং শেষের ১৫ মিনিট থাকে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ হয়ে যায়। তারপরও দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির পর মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হয়। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর কাজী ফারুকী অত্র প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন, যা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব আস্থার জন্ম হয়েছে। স্কুল ও কলেজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান, সপ্তাহে দুইটি টিউটোরিয়াল পরীক্ষার ব্যবস্থা, বাধ্যতামূলকভাবে মেকআপ ক্লাসে উপস্থিতি, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে আলোচনা সভা, ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিতভাবে ক্লাসে উপস্থিতি, অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার ও কোর্সপ্ল্যান অনুযায়ী শিক্ষাক্রম পরিচালিত হয়। সাপ্তাহিক, মাসিক এবং পর্ব পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। প্রতিটি টার্ম পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সেকশন পরিবর্তন করা হয়, ফলে ভালো ফল করার জন্য প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের বর্তমান বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিযোগিতামূলক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে গড়ার লক্ষ্যে নিয়মিত মূল্যায়ন সভা, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাসিক পত্রিকা, বার্ষিকী, দেয়াল পত্রিকা, সেমিনার, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান ও দিবস পালন, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রভৃতি শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজের রয়েছে পর্যাপ্ত বই সমৃদ্ধ সুসজ্জিত লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার।
অবকাঠামোগত দিক থেকে কলেজটি অবশ্যই অনন্যতার দাবিদার। এত সুন্দর এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কলেজটি নির্মিত, যা জেলার অন্যতম কলেজ ভবন হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমান অ্যাকাডেমিক ভবন ছাড়াও নির্মিত হবে শিক্ষক আবাসিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রী হোস্টেল এবং অডিটোরিয়াম। গ্রামাঞ্চল এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের যুগোপযোগী শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাদের দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। পড়ালেখায় মনোযোগী-অমনোযোগী এবং অগ্রসর ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে উপযুক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। অভিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষকমণ্ডলী তাঁদের প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে একটি সুনিষ্ঠিত নিয়ম-নীতি, কেননা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নির্ভর করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বিত নিয়ম-শৃঙ্খলা ও আচার-আচরণের ওপর। স্কুল ও কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম, যা পরিধান সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। শিক্ষকদের জন্য রয়েছে সাদা রঙের এপ্রোন। প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজ গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত হয়েও দেশের সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সেরা প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
[সমাজসেবা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম]
প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ২০২৬ সালে আরও দুটি ব্যতিক্রমী ও মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। পিতার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘কাজী নূর মোহাম্মদ দস্তরখানা’, যেখানে অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রয়োজন পূরণ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘কাজী বাড়ি ওয়াকফ কবরস্থান’, যা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত।
[সামাজিক কর্মকাণ্ড]
বাল্যকাল থেকেই প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে নানাবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ডে সবসময় অংশ নিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
১) উপদেষ্টা সংগঠক, উদ্যোক্তা, আহ্বায়ক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও প্রতিষ্ঠাতা – ঢাকা কমার্স কলেজ
২) উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য – ঢাকা মহিলা কলেজ
৩) উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য – বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)
৪) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা – লালমাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
৫) প্রতিষ্ঠাতা – চরমোহনা উচ্চ বিদ্যালয়
৬) উপদেষ্টা – হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ
৭) উপদেষ্টা – আইডিয়াল ‘ল’ কলেজ
৮) উপদেষ্টা – লক্ষ্মীপুর বার্তা
৯) সাবেক সভাপতি – লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতি, ঢাকা
১০) সাবেক সদস্য, অর্থ কমিটি – জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (৭ বছর)
১১) সাবেক সিনেট সদস্য – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১২) অন্যতম উদ্যোক্তা, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও আজীবন সদস্য – বাংলাদেশ বাণিজ্য শিক্ষা সমিতি
১৩) নির্বাহী কমিটির সদস্য – ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম গভঃ কমার্স কলেজ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন
১৪) স্বেচ্ছা রক্তদাতা – বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় রক্তদানে অনুপ্রাণিত করতেন
তিনি সর্বদাই বিশ্বাস করতেন যে, পরিশ্রম, দূরদৃষ্টি, সততা, সুপরিকল্পনা এবং কাজ করার আগ্রহ থাকলে যে কোনো অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। ঢাকা কমার্স কলেজ যুগোপযোগী বাণিজ্য শিক্ষার এক অনুকরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাঁরই হাত ধরে।
[লেখক ও গবেষক]
প্রফেসর কাজী ফারুকী বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় চল্লিশটির মতো প্রবন্ধ প্রকাশ ছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ২০টি পাঠ্যবই রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা, উচ্চ মাধ্যমিক ব্যাংকিং ও বীমা, উচ্চ মাধ্যমিক বাণিজ্যিক ভূগোল, কারবার সংগঠন পরিচিতি, মৌলিক ব্যবস্থাপনা, উচ্চতর ব্যাংকিং ও বীমা, হিসাব রক্ষণ ও হিসাব বিজ্ঞান (১ম ও ২য় খন্ড), বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও সচিবের কার্যপদ্ধতি, উচ্চতর কারবার সংগঠন ও পরিসংখ্যান, বাণিজ্যিক ও শিল্প আইন এবং কোম্পানী আইন। কবিতার বই হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে ‘একুশের সংলাপ’ ও ‘বসন্ত সংলাপ’। ইসলামিক বইয়ের মধ্যে ‘এক নজরে হজ্জ ও জেয়ারত’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত বই নিয়ে একসময় দেশের প্রায় প্রতিটি জেলার অসংখ্য কলেজে গিয়েছেন তিনি।
[মুক্তিযুদ্ধে অবদান]
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি জগন্নাথ কলেজে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষকতার আড়ালে থেকেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহুবার মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে গোলাবারুদ পৌঁছে দিয়েছেন, ওষুধ সরবরাহ করেছেন এবং নানাভাবে সহায়তা করেছেন। দেশপ্রেমের এই অধ্যায় তাঁর জীবনকে আরও মহিমান্বিত করেছে।
[দেশ-বিদেশ ভ্রমণ]
দেশ ভ্রমণ প্রফেসর ফারুকীর প্রিয় শখগুলোর অন্যতম। তিনি বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। শুধু বিদেশ নয়, কর্মব্যস্ততার ফাঁকে কখনো পরিবার, কখনো সহকর্মী, কখনো প্রিয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশের আনাচে-কানাচেও বহুবার ভ্রমণে বেরিয়েছেন।
[রাষ্ট্রীয় ও অন্যান্য পুরস্কার]
শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৩ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে এই উজ্জ্বল প্রতিভা ঢাকা মহানগরীর শ্রেষ্ঠ কলেজ-শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে স্বর্ণপদক ও সনদ লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি লায়ন্স নজরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয় থেকে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। বাণিজ্য শিক্ষার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য ২০১০ সালে ধরিত্রী বাংলাদেশ থেকে সম্মাননা ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক তিনি বহুবার পুরস্কৃত ও সম্মানিত হয়েছেন।
[জীবনাদর্শ ও বর্তমান অবস্থা]
প্রফেসর কাজী ফারুকী মানুষকে ভালোবেসেছেন সর্বান্তকরণে। তিনি অত্যন্ত কঠোর কিন্তু তাঁর মন খুবই কোমল। যদি কানে আসত কোনো ছাত্র অর্থের অভাবে পড়তে পারছে না, বিষয়টি তিনি গভীরভাবে ভাবতেন এবং পরবর্তী সময়ে এমন সিদ্ধান্ত দিতেন যাতে তার পড়াও হয় আর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করে। গ্রাম-সমাজের সবার তিনি এক আপনজন, তাই সুখে-দুঃখে সবাই তাঁর কাছে ছুটে আসত। খুব ধনী ঘরের সন্তান ছিলেন না, তবু জীবনের সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে তিনি সবসময় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। তিনি সারাক্ষণ কাজ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, এর বাইরে আর কিছু ভাবতেন না। তাঁর জীবনদর্শনের মূলমন্ত্র ছিল- “কাজ করে খাও, কর্মের মধ্যেই জীবনের স্বার্থকতা, কোনো কাজই ছোট করে দেখো না।” তিনি একজন সৎ ও মহৎ গুণাবলীর মানুষ। জীবনে কখনো কারও অপকার করেননি, উপকার ব্যতীত। কোনোদিন হারাম উপার্জনে নিজেকে জড়াননি, তাঁর মনে কোনো হিংসা-লোভ নেই, কখনো কারও কাছে কিছু চাননি- যা চেয়েছেন একমাত্র আল্লাহর দরবারে। যে কোনো কাজ শুরুর আগে এবং শেষে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন এবং দোয়া প্রার্থনা করতেন। কেবলমাত্র ধৈর্য ও কর্তব্যনিষ্ঠাই একজন মানুষকে সফলতার শিখরে আরোহণ করাতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী।
২০২০ সালের জুলাই মাসে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরেন, কিন্তু আগের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। বর্তমানে প্রফেসর কাজী ফারুকী দুরারোগ্য ব্যাধি পার্কিনসনসহ নানা বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত। তিনি সকলের দোয়া প্রার্থী।
কর্মই মানুষকে বিশাল করে, বৃহৎ করে, মহৎ করে। আজ এক গৌরবময় জীবনের মধ্যে বিরাজমান প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী। দেশে ও বিদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর কর্মধারা চির অনুকরণীয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে, এক কথায় সর্বক্ষেত্রে তাঁর বিরচন ছিল সাবলীল ও গৌরবময়। প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী বাংলাদেশের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান। শিক্ষা, সমাজসেবা আর মানবতার যে বিরল দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা জাতির জন্য চিরকাল পাথেয় হয়ে থাকবে। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি এবং তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করি।







