অশ্রুসিক্ত চোখে ইমাম খামেনিকে লাখো মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চলমান সপ্তাহব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচির তৃতীয় দিনে আজ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ রোববার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ইমাম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা শুরু হয়।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, দেশটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের জানাজায় ইমামতি করেছেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, স্পিকারসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

ইমাম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় পাঁচটি কফিন দেখা গেছে। এসব কফিনে তার পরিবারের আরও ৪ সদস্যের মৃতদেহ রাখা হয়েছে। নিহত আরও তিনজনের কারণে জানাজার নামাজ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম ধাপে আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য নামাজ আদায় করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে তার পরিবারের সদস্য সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি এবং জাহরা হাদ্দাদ আদেল-এর জন্য জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় ধাপে তার নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জন্য জানাজার নামাজ আদায় করা হয়।

আরও পড়ুন:  হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনা মুদ্রা নিচ্ছে ইরান

তেহরানে চলমান এক সপ্তাহব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচির তৃতীয় দিনে বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ অংশ নেন। বিশিষ্ট ধর্মীয় আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় বিদায়ী অনুষ্ঠান শুরু হয়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রথম জানাজা হয়। শনিবার থেকে এ স্থানেই সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানাজার নামাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লার প্রধান চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আগামীকাল সোমবার তেহরানে এবং আগামী মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর খামেনির মরদেহ আরও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে বৃহস্পতিবার দাফনের জন্য মরদেহ ইরানের মাশহাদ শহরে ফিরিয়ে আনা হবে।

আরও পড়ুন:  শচীনকে ছাপিয়ে চূড়ায় কোহলি

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন। পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতা ছিলেন খোমেনি। অন্যদিকে, সেই বিপ্লবের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি।

খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তার শাসনামলের শুরুতেই এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শিয়া শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রাক্কালে তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:  চট্টগ্রামে আবদুল্লাহ আল নোমানের জানাজায় মানুষের ঢল

খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেন। পাশাপাশি বহির্বিশ্বের হুমকি মোকাবিলায় একটি উন্নত প্রতিরক্ষা কৌশল প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর শাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশব্যাপী অস্থিরতায় রূপ নেয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন খামেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + 4 =