বরেণ্য চিত্রশিল্পী, শিল্পশিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারকে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এর আগে দাফন ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে নেওয়া হবে। এছাড়া সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিল্পীর শেষ বিদায়ের কর্মসূচির কথা সমকালকে জানিয়েছেন চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মরদেহ প্রথমে নেওয়া হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হওয়ায় সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল সাড়ে ১০টায় মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করা এই প্রতিষ্ঠানে সহকর্মী, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষককে শেষ বিদায় জানাবেন।
চারুকলায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। এসব কর্মসূচিতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শিল্পী-সাহিত্যিক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবেন।
আজ সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে গোসল সম্পন্ন করার পর মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে আনা হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। বিকেল পর্যন্ত বাসভবনে রাখার পর মরদেহ সংরক্ষণের জন্য স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হবে।
চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান জানান, শিল্পীর প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ করে দিতেই ধাপে ধাপে এসব কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিটিভি ও চারুকলার সঙ্গে মুস্তাফা মনোয়ারের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি সম্মান জানিয়েই সেখানে মরদেহ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন মুস্তাফা মনোয়ার। ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।
দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, টেলিভিশন ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।







