বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে যৌনকর্মীদের চাহিদা তুঙ্গে

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে টানটান উত্তেজনা। বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলে এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দর্শক সমাগমের প্রস্তুতি চলছে।

আয়োজকদের অনুমান, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলো উপভোগ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১২ লাখ ফুটবলপ্রেমী এই অঞ্চলে পা রাখবেন। আর এই বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এসকর্ট সেবার চাহিদা রেকর্ড পরিমানে বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর স্থানীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই এসকর্ট সেবাদাতাদের বুকিং এবং অনুসন্ধানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ পাচ্ছেন কর্মীরা।

আরও পড়ুন:  যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার থেকে রোজা শুরু

ব্রুকলিনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যৌনকর্মী জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন গ্রাহকদের অনুরোধে তিনি প্রায় অভিভূত। তিনি তার বিশেষ সেবার জন্য পুরো দিনের পারিশ্রমিক হিসেবে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিচ্ছেন।

ঘণ্টাপ্রতি ৮০০ ডলারে সেবা দেওয়া ওই নারী আরও জানান, মে মাসে তার অনলাইন প্রোফাইলে যোগাযোগের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে দম্পতিদের কাছ থেকে অনুরোধের সংখ্যা আকাশচুম্বী। সাধারণত প্রতি মাসে তিনি একটি দম্পতির অনুরোধ পেলেও, গত এক মাসে ২৫টি নতুন অনুরোধ পেয়েছেন।

নিউ জার্সিভিত্তিক আরেক যৌনকর্মী জানান, জুনের শিডিউল দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরে আসতে যাওয়া কয়েকজন গ্রাহক ইতিমধ্যেই তার সময় নিশ্চিত করতে ৩ হাজার ডলার করে অগ্রিম জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে ইউরোপের গ্রাহকও রয়েছেন।

আরও পড়ুন:  ঢালিউডের পর্দায় রবি ঠাকুরের যত গল্প

বিশ্বকাপ ঘিরে একদিকে যেমন ব্যাবসায়িক ব্যস্ততা তুঙ্গে, অন্যদিকে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বড় ধরণের আন্তর্জাতিক আয়োজনের সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, বিশ্বকাপের বাড়তি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে যৌন ও শ্রম পাচারের ঘটনা বাড়তে পারে। নিউ জার্সি স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অব চিফস অব পুলিশের সভাপতি অ্যান্ড্রু ক্যাজিয়ানোও এই মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন।

নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ডেভেনপোর্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করতে নিউ জার্সি স্টেট পুলিশ প্রায় ১,২০০ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। এই সদস্যরা বিশ্বকাপের বিভিন্ন অফিশিয়াল ও অনানুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানস্থলে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবেন।

আরও পড়ুন:  গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে আলোচনা চলছে: হোয়াইট হাউস

সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *