চীন আমাকে মুগ্ধ করেছে: ট্রাম্প

চীন সফরের দ্বিতীয় দিনে বেইজিংয়ের ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ফাঁকে চীনের আতিথেয়তা ও সৌন্দর্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

শুক্রবার (১৫ মে) হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীনের প্রশাসনিক কেন্দ্র ঝংনানহাইয়ের বাগানে হাঁটার সময় ট্রাম্প সেখানকার সাজসজ্জা দেখে অভিভূত হন।

বিশেষ করে বাগানের গোলাপ ফুল দেখে তিনি মন্তব্য করেন, এগুলো তার দেখা বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর গোলাপ। এ সময় শি জিনপিংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ট্রাম্প জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট তাকে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনের জন্য গোলাপ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সফর চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের তারিখও ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শি জিনপিং ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন।

আরও পড়ুন:  শপথ নিলেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা

ট্রাম্প এই সফরকে পারস্পরিক বাণিজ্যের মতোই একটি ‘পারস্পরিক সফর’ হিসেবে অভিহিত করে আশা প্রকাশ করেন, তিনি যেভাবে চীন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন, শি জিনপিংও তেমনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে অভিভূত হবেন। ঝংনানহাইয়ের টি-রুমে যাওয়ার পথে দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতা লক্ষ্য করা গেছে, যা দুই পরাশক্তির সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বৈঠকের অংশ হিসেবে শুক্রবার দুই নেতা একটি রাজকীয় ও কার্যকরী মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, মধ্যাহ্নভোজের মেন্যুতে ছিল সামুদ্রিক স্যুপে কুচি করা কডফিশ, মচমচে ও ভাজা লবস্টার বল, মোরেল মাশরুম দিয়ে তৈরি প্যান-সিয়ারড বিফ ফিলে, কুং পাও চিকেন ও স্ক্যালপস।

এ ছাড়াও ছিল ধীমি আঁচে সেদ্ধ শুকরের মাংস, শ্রিম্প ডাম্পলিং, গরুর মাংসের পুরভরা পাউরুটি এবং বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি সবজি। মিষ্টান্ন হিসেবে চকলেট ব্রাউনি, ফল ও আইসক্রিমের পাশাপাশি চা ও কফির ব্যবস্থা ছিল। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের সফরসঙ্গী ও সাংবাদিকদের জন্য ভ্যানে করে ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার সরবরাহ করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:  ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে 'আমরা মুজিব'

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা এবং আতিথেয়তা বিনিময়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও বাণিজ্য এবং তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য বিদ্যমান, তবে এই সফরের মাধ্যমে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প বারবার শি জিনপিংকে একজন বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দুই দেশের অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বরের ফিরতি সফরটি দুই দেশের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × five =