যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সময় প্রাণ হারালেন বুয়েট শিক্ষিকা আফিফা

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সময় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফিফা রহমান নাইমা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা–শ্যাম্পেইনে পিএইচডি করছিলেন।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে মরহুমার নিকট আত্মীয় ও সহকর্মী সূত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। 

পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় জটিলতা দেখা দিলে আফিফা কয়েকদিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।বুয়েটের সাবেক শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘বুয়েটে পানিসম্পদ কৌশল বিভাগে এক সময়ে শিক্ষক থাকায় চাকরি ছেড়ে দেবার অনেক বছর পরেও পানিসম্পদ কৌশলের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে ফেইসবুকে যুক্ত আছি। সেরকমই একজন ছিল আফিফা রহমান নাইমা! ছিল বললাম, কারণ আজই ওর মৃত্যুর দুঃসংবাদটা পেলাম।

আরও পড়ুন:  ভারী বর্ষণ, ভূমিধসের সতর্ক বার্তা
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন! সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়ের জটিলতা নিয়ে আইসিইউতে ছিল কয়েকদিন ধরে। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। পানিসম্পদ কৌশলের সহকারী অধ্যাপক ছিল, পিএইচডি করছিল আরবানাতে। খুব কম বয়সে একটি প্রতিভা হারিয়ে গেল আমাদের কাছ থেকে।
দোয়া করি আল্লাহ ওকে বেহেশত নসীব করুন। সেই সাথে প্রার্থনা রইল ওর স্বামী ও দুটি সন্তানের জন্য।’একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের পিএইচডি স্টুডেন্ট আফিফা রহমান নাইমা ইন্তেকাল করেছেন। আফিফা ও ওর হাজবেন্ড মো. ইফতেখার ইসলাম সাকিব আমাদের আরবানার খুব ক্লোজ প্রতিবেশী, ফ্রেন্ড।

ওরা দুজনেই ওখানে পিএইচডি স্টুডেন্ট, বুয়েটের শিক্ষক। গত চার বছরের স্মৃতিগুলো ভাসছে চোখের সামনে।’

আরও পড়ুন:  বুয়েটে ভর্তির পরীক্ষার ফল প্রকাশ

তিনি আরো লেখেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে রাহনুমার কাছ থেকে আপডেট নিচ্ছিলাম, ও বলতেছিলো আপুর বাঁচার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এটা শুনতেই খারাপ লাগতেছিলো। বললাম, এভাবে বলো না, আল্লাহ চাইলে তো শেষ মুহূর্তেও ফিরিয়ে দিতে পারেন। ২য় সন্তান জন্মের সময় ডেলিভারি সংক্রান্ত জটিলতা হয়। ডাক্তাররা ইমার্জেন্সি সিজার করেছেন। ইউএস সময় আজ শুক্রবার বিকেলে (ঘণ্টা দুয়েক আগে) আফিফাকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করে ভেন্টিলেশন খুলে নেয়। বড় বাচ্চাটার বয়স মাত্র দেড় বছর। দুইটা অবুঝ শিশু কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাকে হারিয়ে ফেললো চিরদিনের জন্য। ঘুম থেকে উঠে খবরটা শোনার পর থেকে অস্থির লাগতেছে। আল্লাহ আফিফার পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন, তার মৃত্যুকে শহিদী মৃত্যু হিসেবে কবুল করুন।’

আরও পড়ুন:  বুয়েটে আবারও চালু হলো ছাত্র রাজনীতি

আফিফা রহমান নাইমার মৃত্যুতে তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *