অ্যান্টার্কটিকায় বাড়ছে পর্যটক, দূষণ ও রোগের শঙ্কা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অ্যান্টার্কটিকার বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে বিশ্বের দক্ষিণ প্রান্তের এই অঞ্চলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দূষণ ও রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

উচ্চ ব্যয় ও দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে এখনো পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদরা।
সম্প্রতি একটি ডাচ ক্রুজ জাহাজে বিরল হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পর্যটন সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।বেশিরভাগ পর্যটন কার্যক্রম অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপে পরিচালিত হয়, যা পৃথিবীর দ্রুত উষ্ণায়নপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি।

২০০২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন মেট্রিক টন বরফ গলেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।২০২৪ সালে ৮০ হাজারের বেশি পর্যটক সরাসরি অ্যান্টার্কটিকায় গেছেন এবং আরও প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ জাহাজ থেকে অঞ্চলটি ভ্রমণ করেছেন।
গত তিন দশকে পর্যটনের পরিমাণ প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘বাংলাদেশের সঙ্গে শিগগিরই অংশীদারত্ব চুক্তি করবে ইইউ’

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী এক দশকে এই সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে।

অনেক পর্যটক ‘লাস্ট চান্স ট্যুরিজম’-এর অংশ হিসেবে অ্যান্টার্কটিকায় যাচ্ছেন, কারণ তারা মনে করছেন ভবিষ্যতে এই বরফাচ্ছাদিত অঞ্চল বর্তমান রূপে নাও থাকতে পারে।

বাড়ছে ঝুঁকি

পর্যটন বৃদ্ধির ফলে পরিবেশ দূষণ ও রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে অ্যান্টার্কটিকায় বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের জন্য কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও আচরণবিধি জারি করা হয়েছে। প্রাণীর কাছাকাছি যাওয়া এবং পরিবেশে অপ্রয়োজনীয় স্পর্শ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ক্রুজ জাহাজে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। অতীতে নরোভাইরাস ও কোভিড-১৯ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার উদাহরণ রয়েছে।

আরও পড়ুন:  জিমি কার্টার ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু : প্রধান উপদেষ্টা

নিয়ন্ত্রণ জোরদারের তাগিদ

অ্যান্টার্কটিকা ১৯৫৯ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় পরিচালিত হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

পরিবেশবিদদের মতে, এই সংবেদনশীল অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: এপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *