সারাদেশে বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, সিরাজগঞ্জে দুইজন, জামালপুরে দুইজন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুইজন এবং নাটোর, পঞ্চগড় ও বগুড়ায় একজন করে মারা গেছেন।
আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গাইবান্ধার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় পৃথক এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় একজন আহত ও একটি গরুও মারা যায়।
এদিকে, ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা চরে ঘোড়ার গাড়ি চালাতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘোড়াসহ মানিক হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান।
এছাড়াও একই উপজেলার ফজলপুর ইউনিয়নের বুলবুলির চরে আলী আকবর নামে এক কৃষক গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, জেলার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম স্বপন।
এদিকে সিরাজগঞ্জে পৃথক দুই এলাকায় বজ্রপাতে দুজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান এলাকা ও বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাসীন গ্রামে এ বজ্রপাত হয়। রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান ঘটনার সত্যত নিশ্চিত করেন।
অপরদিকে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, বিকেলে বৃষ্টির মধ্যেই বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করা অবস্থায় বজ্রপাতে মারা যান কৃষক আব্দুল হামিদ।
জামালপুরের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে হাসমত আলী হাসু (৪৫) ও মর্জিনা বেগম (২২) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন চারজন।
বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সদর উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত হাসমত আলী হাসু ওই এলাকার হাবিবর রহমান মণ্ডলের ছেলে। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জেলার মেলান্দহ উপজেলায় নিজ বাড়িতে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শেফালী (২৮) নামে আরও এক নারী আহত হয়েছেন। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া দেওয়ানগঞ্জ ও সদর উপজেলায় চারটি গরু ও দুইটি মহিষ মারা গেছে৷
নাটোরের সিংড়ায় বজ্রপাতে মো. সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সম্রাট সিরাজগঞ্জে জেলার শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের মো. সাজা ফকিরের ছেলে। সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন ওই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে চা বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামে এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে মোস্তফা ও জমিরুল নামে আরও দুইজন শ্রমিক। রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে৷
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের ও কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, বিকেলে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলী নিজের জমির ফসল দেখতে মাঠে যান। এ সময় তিনি আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ফসলি জমিতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে পৃথক স্থানে দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।







