বাড়তি ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত প্রভাবে আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাড়তি ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের সাইডলাইনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

গত ১৩ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী পৃথকভাবে আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক উর্জিত প্যাটেল এবং বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন জাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইএমএফের বিদ্যমান কর্মসূচির আওতায় কিস্তি ছাড় করার বাইরে আরও বড় ধরনের সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘কিস্তি ছাড় তো একটি বিষয়, তবে প্রোগ্রামের অধীনে এর চেয়েও ভালো কিছু হতে পারে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, স্বল্প মেয়াদে জুনের মধ্যে এবং পরবর্তী বাজেটে অতিরিক্ত অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। সার্বিক আলোচনা সফল হয়েছে। আমরা যে ঘাটতির মুখে পড়েছি, তা পূরণে বহুলাংশে সফল হওয়া যাবে। বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন:  এক ঘণ্টা অচল থাকায় ১০০ মিলিয়ন ডলার হারাল মেটা

প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আগামী জুনের মধ্যে অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা চেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে জুনে দুটি কিস্তিতে ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ারও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ সহায়তার মধ্যে নীতিগত সহায়তা ও অর্থায়ন– উভয়ই থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই অর্থনীতিতে বিভিন্ন ঘাটতি ছিল। যুদ্ধের কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক নীতিগত ও আর্থিক– দুই দিক থেকেই সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবে।’

আরও পড়ুন:  পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন টিউলিপ সিদ্দিক

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য আইএমএফ ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাংক দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত জরুরি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

উন্নয়ন দর্শনে মিল ও নতুন খাতের সম্ভাবনা
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কাজ শুরু করায় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় সহজ হয়েছে।

বৈঠকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। খেলাধুলা, সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র এবং গ্রামাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবীদের এই কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনাকে বিশ্বব্যাংক ইতিবাচকভাবে দেখছে। প্রয়োজনে এ খাতের জন্য আলাদা পোর্টফোলিও তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *