ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির দাবি ফের নাকচ করল ইরান

প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুদ্ধবিরতি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ইরান। একাধিকবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা ট্রাম্প জানালেও সেসবের কিছুই পায়নি বলে জানিয়েছে তেহরান।

বুধবার ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, ‘পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব বিবেচনা করবে না।’কিন্তু এর পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘দেশটির পক্ষ থেকে কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়াই হয়নি।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্র আইআরআইবির বরাতে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন:  দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৪৫ বাংলাদেশি

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে ‘মিডিয়ার কল্পনা’ বলে উল্লেখ করেছেন আরাগচি।

তিনি বলেন, ‘চলমান সংঘাত তখনই থামবে যখন আগ্রাসী পক্ষকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং ইরানকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’শুরু থেকেই এই অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান। দেশটি বারবার বলছে, অন্তত ছয় মাসের একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‌‌‘ইরানের প্রেসিডেন্ট এইমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতি চেয়েছেন!’

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি যখন উন্মুক্ত, অবাধ এবং পরিষ্কার হবে, তখনই আমরা এটি বিবেচনা করব।

তার আগ পর্যন্ত আমরা ইরানকে ধ্বংস করে ধূলিসাৎ করে দেব অথবা তারা যেমনটি বলে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব!’

আরও পড়ুন:  বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন বই

এ ছাড়া ইরানের সরকারি এক কর্মকর্তা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি অস্বীকার করেছেন। তেহরান থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি আলী হাশেম বলেছেন, ‘আমরা একজন ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিনি তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি চাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *