চুক্তি না হলে ইরানকে উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলকূপ এবং প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুমকি দেন।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ইরানের নতুন নেতাদের সঙ্গে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু যদি কোনো কারণে চুক্তি না হয় এবং হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়া না হয়, তবে আমরা আমাদের এই ‘অবস্থান’ থেকে সরে এসে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খারগ দ্বীপ পুরোপুরি উড়িয়ে দেব।

তিনি বলেন, গত ৪৭ বছরের ‘সন্ত্রাসী শাসনামলে’ ইরান যেসব মার্কিন সেনাকে হত্যা করেছে, এটি হবে তার প্রতিশোধ।

আরও পড়ুন:  ফের ভারতকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প

উল্লেখ্য, খারগ দ্বীপ ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। এর আগে হামলা বন্ধ করে চুক্তির জন্য ইরানকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

গতকাল রোববার স্থানীয় সময় গভীর রাতে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে ‘সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে’ আলোচনা চলছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ দখল করব, অথবা করব না। সেখানে মার্কিন উপস্থিতি মানে আমাদের বেশ কিছুকাল সেখানে থাকতে হবে। আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে এবং আমরা সহজেই দ্বীপটি দখল করতে পারি।’

ট্রাম্প দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে। এখনো তাদের হাতে আরও ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা রয়েছে। তিনি বলেন, খুব দ্রুত একটি চুক্তি হতে পারে। না হলে এসব লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানো হবে।

আরও পড়ুন:  ধ্যানে মোদি, ৪৫ ঘণ্টা বলবেন না কথা

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তেহরানকে এই জলপথ খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান যে আলোচনায় আগ্রহী এটা প্রমাণ করতে হোয়াইট হাউসকে ‘উপহার’ হিসেবে গত সপ্তাহে ১০টি এবং পরে আরও ১০টি পাকিস্তানি পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছেন বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন।

তিনি গালিবাফকে কার্যকর আলোচনার একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে তুলে ধরেন। তবে ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরনার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গালিবাফ প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, শত্রুরা জনসমক্ষে আলোচনা ও সংলাপের বার্তা পাঠাচ্ছে, অথচ গোপনে স্থল আক্রমণের ছক কষছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের যোদ্ধারা স্থলপথে মার্কিন সৈন্যদের অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে এবং এই অঞ্চলে তাদের মিত্রদের চরম শাস্তি দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:  বিবেকই যথেষ্ট, আন্তর্জাতিক আইন দরকার নেই

বর্তমানে মিশর, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করছে। সোমবার কায়রোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলনে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ট্রাম্পের প্রতি যুদ্ধ থামানোর আবেগঘন অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি নিজের পক্ষ থেকে এবং শান্তিকামী মানুষের পক্ষ থেকে বলছি—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনি শান্তিপ্রিয় মানুষ, আমাদের এই যুদ্ধ থামাতে সাহায্য করুন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *