মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ২,৫০০ নৌসেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ২,৫০০ নৌ-সেনা (মেরিন) এবং একটি উভচর যান পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

মার্কিন এক কর্মকর্তা এই বড় ধরনের শক্তি বৃদ্ধির খবর নিশ্চিত করেছেন। এই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, জাপানের ওকিনাওয়ায় মোতায়েন থাকা ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনাল ইউনিটের সদস্য এবং উভচরযান ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’-কে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে ত্রিপোলিকে তাইওয়ানের কাছ দিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইরান উপকূলে পৌঁছাতে পারে।

মেরিন এক্সপিডিশনাল ইউনিটের সদস্যরা সাধারণত সমুদ্রপথে অবতরণ, দূতাবাস সুরক্ষা এবং উদ্ধার ও ত্রানকাজে পারদর্শী।বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং আটটি ডেস্ট্রয়ারসহ ১২টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ৮,০০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন:  গাজায় চরম মানবিক বিপর্যয়, ৪৮ ঘণ্টায় গেল প্রাণ ৯৭০

নতুন মেরিন বাহিনী মোতায়েন হতে চলার খবর প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সামরিক পর্যবেক্ষকদের কারো কারো আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘদিন চলতে পারে আঁচ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান আরও জোরদার করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সেকারণেই হয়ত নতুন করে এই সেনা ও উভচার যান পাঠানো।

যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে উভচর যান থেকে সাধারণত পদাতিক বাহিনী স্থলভূমিতে অবতরণ করে। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী পারস্য এবং ওমান উপসাগরের পথে ইরানে স্থল অভিযান শুরু করতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ তখনই শেষ হবে “যখন আমি তা অন্তরে অনুভব করব।” ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি কিছুটা রক্ষণশীল মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন:  মিয়ানমারকে ১৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ট্রাম্প বলেন, “অস্ত্রহীন সাধারণ মানুষের পক্ষে বর্তমান সরকারকে হটানো অনেক কঠিন বাধা,” বিশেষ করে ইরানের বাসিজ বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে।

ইরান ইসরায়েল ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত রুদ্ধ হয়ে থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল।

ওদিকে, ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি কেন্দ্রীয় স্কয়ারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে এবং ইসরায়েলের ধ্বংস চেয়ে আয়োজিত এক বার্ষিক সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিল।

বিস্ফোরণে হতাহতের কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি। তবে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই গণ-সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ইসরায়েলের হামলার হুমকি, উভয়ই এই যুদ্ধের তীব্রতাকে ফুটিয়ে তুলছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে টালমাটাল করে দিলেও থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:  প্রথমবারের মতো গ্রহাণুতে পানির অস্তিত্ব শনাক্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *