গভর্নরকে অপসারণের খবরে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াল শেয়ারবাজার

দিনভর ঋণাত্মক প্রবণতায় আটকে থাকার পর লেনদেনের একেবারে শেষ সময়ে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। বিক্রির চাপ আর বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে ক্লান্ত বাজারে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে একটি গুঞ্জন—বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সূচক ঋণাত্মক অবস্থা কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে আসে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের বেশিরভাগ সময়ই সূচক ছিল নিম্নমুখী। লেনদেন শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগ পর্যন্তও বাজার ছিল ঋণাত্মক অবস্থানে। শুরু থেকেই দরপতনের তালিকা বড় হতে থাকে এবং সূচক নিচের দিকে নেমে যায়। দিনের প্রায় পুরোটা সময় একই প্রবণতায় লেনদেন চলে।

এ সময় বাজারে গভর্নর পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে বিষয়টি একই দিন চূড়ান্ত হতে পারে বলেও আলোচনা ছিল।

আরও পড়ুন:  ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ

এই খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনায় সক্রিয় হন। দীর্ঘদিন ধরে গভর্নরের অপসারণের দাবি জানানো একাংশ বিনিয়োগকারী এতে ইতিবাচক সংকেত দেখেন। ফলে দরপতনের তালিকায় থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ঘুরে দাঁড়ায়। যদিও কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি ছিল, তবু শেষ পর্যন্ত বাড়তি ক্রয়চাপে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে দিন শেষ করে।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ১৫১ পয়েন্টে উঠে আসে।

সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৬৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮২৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ লেনদেন কমেছে ২৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের সব লকার ফ্রিজ

বুধবার ডিএসইতে ১৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৬৭টির কমেছে এবং ৭২টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৪টির দাম বেড়েছে, ১০৭টির কমেছে এবং ৩৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের ৩৭টি কোম্পানির দাম বেড়েছে, ২৭টির কমেছে এবং ১৫টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৫৩টির দাম বেড়েছে, ৩৩টির কমেছে এবং ২২টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩টির দাম বেড়েছে, ১৭টির কমেছে এবং ১৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেনে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল সিটি ব্যাংক, যার ৪২ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এরপর রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং ব্যাংক এশিয়া, ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে। শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও ছিল রবি, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, কে অ্যান্ড কিউ, ইস্টার্ন ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং বিডি থাই ফুড।

আরও পড়ুন:  গভর্নরের দায়িত্বে নূরুন নাহার

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩ পয়েন্ট বেড়েছে। সেখানে ১৭৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির দাম বেড়েছে, ৮৪টির কমেছে এবং ১৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকার তুলনায় কম।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিতই শেষ মুহূর্তে বাজারে ইতিবাচক সাড়া জাগাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *