ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র মনোনয়নপ্রত্যাশী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে নির্বাচনী প্রাচারণা চালানোর সময় রাজধানীর বিজয়নগরে হাদির ওপর গুলি চালানো হয়।
হাদিকে গুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক।
তিনি বলেন, দুপুর আড়াইটার পরপরই হাদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার বাম কানের নিচে গুলি লেগেছে, অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন হাদি। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা আসে। পরে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা শুনেছি বিজয়নগর এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত নই, আমাদের টিম পাঠিয়েছি। টিম আমাদের কনফার্ম করলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হাদির মতো আমাদের জীবনেরও শঙ্কা রয়েছে, আমাদেরকেও মেরে ফেলা হতে পারে, তবে আমরা জীবন দিয়ে লড়াই করে যেতে চাই।
এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ওসমান হাদিকে গুলি করা হলো। চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে। রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন হাদি
গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি ৩০টি নম্বর থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন হাদি। ১৪ নভেম্বর এক ফেসবুকে পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে হত্যা, তার বাড়িতে আগুনসহ তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া হয়েছে।
ওসমান হাদি লিখেছিলেন, গত তিন ঘণ্টায় আমার নম্বরে আওয়ামী লীগের খুনিরা অন্তত ৩০টা বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করেছে। যার সামারি হলো- আমাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তারা আমার বাড়িতে আগুন দেবে। আমার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণ করবে এবং আমাকে হত্যা করবে।






