স্বামীর হাত চেপে ধরে মেহেরীন বললেন—‘আর দেখা হবে না’

রাজধানী উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে নিরাপদে বের করে আনা শিক্ষিকা মেহেরীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকার বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দাফন শেষে স্ত্রীর সঙ্গে কাটানো শেষ মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে হাউমাউ করে কান্না করেন মনসুর হেলাল। 

তিনি বলেন, ‘সোমবার রাতে হাসপাতালে ওর সঙ্গে আমার শেষ দেখা।

আইসিইউতে শুয়ে আমার হাতটা ওর বুকের সঙ্গে চেপে ধরেছিল। তখন বলেছিল—আমার সঙ্গে আর দেখা হবে না। আমি মেহেরীনের হাতটা ধরতে গিয়েছিলাম, কিন্তু শরীরটা এমনভাবে পুড়ে গিয়েছিল যে, হাতটা ঠিকভাবে ধরতেও পারিনি।’মেহেরীনের ভেতরে একটা মায়া ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ও অনেক ভালো মানুষ ছিল।

আরও পড়ুন:  ইসরায়েল থেকে মুক্তি পেল ১৯৬৮ ফিলিস্তিনি, ‘মাইলফলক’ বলল হামাস
আগুন লাগার পর যখন অন্যরা দৌঁড়াচ্ছিল তখন ও বাচ্চাদের বের করে আনছিল। কয়েকজনকে বের করার পর আবার ফিরে গিয়েছিল বাকি বাচ্চাদের জন্য। কিন্তু সেই ফেরাটা আর শেষ হয়নি। সেখানেই আটকে পড়ে, পুড়ে যায় আমার মাহেরীন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মরহুম মোহিতুর রহমান চৌধুরী ও ছাবেরা চৌধুরী দম্পতির বড় সন্তান মাহেরীন চৌধুরী। তারা দুই ভাই ও দুই বোন। শিক্ষাজীবন শেষে মেহেরীন ২০০২ সালে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৮ সালে শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার চর আত্রাই গ্রামের মনছুর হেলালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

স্বামী ঢাকার একটি কম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

তাদের রয়েছে দুই ছেলে সন্তান। এর মধ্যে বড় ছেলে আইয়ান রশিদ মিয়াজ ‘ও’ লেভেল শেষ করেছে। আর ছোট ছেলে আদিল রশিদ মাহিদ ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দেবে। মেহেরীনের বাবা মোহিতুর রহমান চৌধুরী ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ও মা ছাবেরা চৌধুরী ২০২০ সালের ৩০ জুন মারা যান।সূত্র আরো জানায়, মেহেরীনের জন্ম ১৯৭৯ সালের ৬ জুন। তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকার শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও ১৯৯৭ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিতুমীর কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন।

আরও পড়ুন:  যুক্তরাষ্ট্রে বিমান দুর্ঘটনা, ক্রীড়া তারকাসহ নিহত ৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *