আজকে আন্দোলনের নামে পড়াশোনার সময় নষ্ট করা, যৌক্তিকতা দেখি না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন যে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত সর্বোচ্চ আদালতে। হাইকোর্টের রায় অনুসরণ করে এবং সাবজুডিস (আদালতে বিচারাধীন) থাকার কারণে সরকার এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণভবনে নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে তিনি কিছু মন্তব্য করতে চান। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত কোটাসহ বিভিন্ন কোটাগুলো বাতিলের দাবি শোনা যাচ্ছে। যদিও একবার কোটা বাতিল করা হয়েছিল, তার ফলাফল সন্তোষজনক ছিল না। পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষার পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, কোটা থাকার সময় নারীরা যে সুযোগ পেত, সেটা বাতিলের পর থেকে কমে গেছে।

আরও পড়ুন:  বিশেষ মর্যাদার দিন ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক জেলা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত থেকে গেছে এবং তাদের অনেকেই চাকরি পাচ্ছে না। এর ফলে কেউ কেউ মামলা করে যাতে হাইকোর্ট একটি রায় দেয়। তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায় সর্বদা মেনে নেওয়া হয়, কিন্তু কোটাবিরোধী আন্দোলন এখন আবার গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া বাদ দিয়ে এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, যেসব শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশী এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছে, তাদের কতজন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং কতজন পাস করেছে, সেই হিসাব বের করা উচিত। তিনি বলেছেন, আন্দোলনকারীরা প্রমাণ করুক যে, পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তারা বেশি পাস করেছে এবং নারীরা বেশি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বেশি চাকরি পেয়েছে।

আরও পড়ুন:  বিশ্বজুড়ে দেখা গেলো ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে আন্দোলনের নামে পড়াশোনার সময় নষ্ট করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালসহ কয়েকটি দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা আন্দোলন করছে। স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা চলে আসছিল। তবে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে ২০১৮ সালের অক্টোবরে নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *