আজ ২১ মে, আন্তর্জাতিক চা দিবস। টেকসই চা উৎপাদন, শ্রমিক কল্যাণ, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। এবারের চা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সাস্টেইনেবল টি, সাপোর্টিং কমিউনিটিস’।

‘এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই, ডাইনে ও বায়ে আমি তোমাকে চাই’। কবী সুমনের এই গানের মধ্যেই স্পষ্ট, চা আমাদের কত আপন। সকালে মনকে চনমনে করতে চায়ের জুড়ি নেই। মন খারাপ কিংবা বৃষ্টিভেজা বিকেলে চায়ের কাপেই ঘোচে নিঃসঙ্গতা। তাই  পানির পর চা-ই হলো বিশ্বে সর্বাধিক পানকৃত পানীয়। 

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে চায়ের অবদান দীর্ঘদিনের। সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে চা শিল্প। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৭০টি চা বাগান রয়েছে। লাখো মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন এ খাতের সঙ্গে।

আরও পড়ুন:  সন্দ্বীপের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের স্মরণ শোক সভা ও দোয়া মাহফিল

বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটিরও বেশি কাপ চা পান করা হয়। আর এই চা উৎপাদনের নেপথ্যে রয়েছে লাখ লাখ চা-শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রম। ন্যাশনাল টুডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে মানুষ ২৫ হাজার কাপ চা পান করেন। অর্থাৎ প্রতিদিন দুই বিলিয়ন কাপেরও বেশি চা পান করা হয়।

২০০৫ সালে চা উৎপাদনকারী দেশগুলো এক হয়ে আন্তর্জাতিক চা দিবস পালন করে। এই দেশগুলো হলো- শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া ও উগান্ডা। পরে ২০১৯ সালে ২১ মে বিশ্ব চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ চা দিবসকে হ্যাঁ বলে। ২০২০ সালের ২১ মে জাতিসংঘ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব চা দিবস পালন করে।

আরও পড়ুন:  রোহিঙ্গাদের খাবারের বরাদ্দ অর্ধেকের বেশি কমালো জাতিসংঘ

ধারণা করা হয়, বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চা পানকারীদের সংখ্যাও বাড়বে। ভারত ও চীনে চায়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে। চা পানে এই ২টি দেশ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩৭ শতাংশ অবদান রাখে।

বছরের পর বছর ধরে চা নিয়ে নানান গবেষণা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গরম পানির সঙ্গে গুল্ম ও পাতা মিশিয়ে পান করা হয়েছে। কিন্তু চায়ের সবচেয়ে আধুনিক সংস্করণ গরম পানির সঙ্গে কয়েক টুকরো চা পাতার মিশিয়ে পান করা। এই পাতা ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। এশিয়ায় গরম চা পান শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে। আর ষোড়শ শতাব্দীর আগে ইউরোপে চা প্রবেশ করতে পারেনি।

১৬০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের মানুষ এই সুস্বাদু পানীয়টির প্রেমে পড়তে শুরু করেন এবং এটি আধুনিক শ্রেণির জনপ্রিয় পানীয় হয়ে উঠতে শুরু করে। ব্রিটিশ ভারতে চায়ের উৎপাদন প্রবর্তিত হয়। শুধু তাই নয় তখন বিশ্বব্যাপী এটি একটি শিল্প হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *