রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোহেল আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। বিচারের দায়িত্ব আদালতের।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচারহীনতার কথা মানুষ সব সময় বলে থাকে, তবে তা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার বিলম্বিত হয় বলে মানুষ মনে করে বিচার পাবে না। কিন্তু এই ধরনের অপরাধে দ্রুত আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ঘটনায়ও সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল (৩২) শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে দেন। হত্যাকাণ্ডের পর ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে পালিয়ে যান তিনি। তবে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসার ভেতরেই ছিলেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেলকে আটক করা হয়।
এই ঘটনায় শিশুর বাবা সোহেল ও স্বপ্নাকে আসামি করে একই দিন পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত ওই শিশু। সে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন সোহেল ও স্বপ্না।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই শিশু বাসা থেকে বের হলে কৌশলে তাকে তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির সময় আসামিদের বাড়ির সামনে শিশুর স্যান্ডেল দেখতে পান তাঁর মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ভবনের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তাঁরা।
ঘরে ঢুকে খাটের নিচে শিশুর মাথাবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে তার কাটা মাথা দেখতে পান স্বজনেরা। ওই সময় ঘরের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বপ্না আক্তার। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করার পর মেরে ফেলেন। পরে লাশ গায়েব করার জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফেলেন। কাঁধ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর মরদেহ খাটের নিচে রেখে কাটা মাথা বাথরুমের বালতিতে রাখা হয়। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল।







