হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ বাইপাস বা এড়িয়ে সরাসরি অপরিশোধিত খনিজ তেল রপ্তানির জন্য একটি নতুন পাইপলাইন তৈরি করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইতিমধ্যে এই পাইপলাইনের কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ বুধবার আটলান্টিক কাউন্সিলের একটি লাইভ-স্ট্রিম অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমন তথ্য দিয়েছেন আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডক্টর সুলতান আল জাবের।
অনুষ্ঠানে অ্যাডনক প্রধান সুলতান আল জাবের বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বে প্রয়োজনের তুলনায় অল্পসংখ্যক চোকপয়েন্ট বা নৌরুটের ওপর বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য নির্ভরশীল। ঠিক এই ঝুঁকি আঁচ করতে পেরেই এক দশকেরও বেশি সময় আগে আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালিকে বাইপাস করার মতো অবকাঠামোতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত বছর আমরা এই নতুন পাইপলাইনের কাজ শুরু করি এবং বর্তমানে এর প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটির শতভাগ কাজ শেষ করে এটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ইরানের ড্রোন হামলায় অ্যাডনকের বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো সচল করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।’
গালফ নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে আরব আমিরাতের একমাত্র সচল বিকল্প রুট হলো ‘হাবশান-ফুজাইরাহ’ তেল পাইপলাইন। এটি আবুধাবির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় হাবশান তেলক্ষেত্র থেকে ওমান উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত ফুজাইরাহ বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বর্তমানে দৈনিক সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন (১৮ লাখ) ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি ছাড়াই সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো যায়।
আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮-ইঞ্চি ব্যাসের নতুন পাইপলাইনটি চালু হলে ফুজাইরাহ বন্দর দিয়ে দেশটির তেল রপ্তানি সক্ষমতা বর্তমানের চেয়ে আরও ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে ফুজাইরাহ দিয়ে মোট পাইপলাইন সক্ষমতা দৈনিক ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছাবে এবং স্টোরেজসহ মোট রপ্তানি ক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেলে। এটি চালু হলে আরব আমিরাত তাদের উৎপাদিত মোট তেলের প্রায় পুরোটাই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করে ওমান উপসাগর হয়ে এশিয়ার বাজারে (বিশেষত ভারত ও চীনে) নিরাপদে পাঠাতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত ১ মে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক সংগঠন ওপেক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা হিসেবে অনেকে জ্বালানি নীতি, নমনীয়তা এবং উৎপাদন সক্ষমতার কথা বলেছেন। আমিরাতের জ্বালানিমন্ত্রী সুহাইল আল মাজরুই এই সিদ্ধান্তকে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তুলে ধরেন।
বাজার বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকাও আমিরাতের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া কিছু বিশ্লেষক আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দৈনিক পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদনের উচ্চাভিলাষ এবং ওপেকের নির্ধারিত কোটার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।







