ঢাকায় ভয়াল ২৯ এপ্রিল স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

আজ ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে বয়ে যায় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি অ্যান’। প্রলয়ংকরী সেই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লন্ডভন্ড হয়ে যায় দেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলা। তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা এলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে ১৯৯১ সালের সেই বিভীষিকাময় রাত; যখন মানুষ, ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, সবকিছু মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গিয়েছিল।
বৃহত্তর মিরপুর সন্দ্বীপ সমাজ ঢাকার উদ্যোগে ভয়াল ২৯ এপ্রিল পালিত হয়েছে। ​১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সন্দ্বীপসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাণ হারানো সকল বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত ‘দোয়া মাহফিল’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায় রাজধানীর চেরী ব্লসমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে দোয়া মাহফিল’ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নিহতদের স্মরণ করা হয়। 
সভায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মোনাজাত করেন সংগঠনের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এনায়েত উল্যা এনাম,সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক ড. সালেহা কাদের।
সাধারণ সম্পাদক রাশেদুর রহমান মেনন এর সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বীরমুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, উপদেষ্টা ডাঃ রুমি আলম,সহ-সভাপতি বোরহান উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হোসেন,ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হুমায়ুন কবির, প্রচার সম্পাদক এম এন হুদা, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম আকাশ, সদস্য আশরাফ হোসেন, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল মধ্যরাতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে ১২ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। এতে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন; নিখোঁজ ছিলেন ১২ হাজার ১২৫ জন। আহত হন আরও এক লাখ ৩৯ হাজারের বেশি মানুষ। প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। বেসরকারি হিসাবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। শুধু মানুষই নয়, প্রায় ৭০ হাজার গবাদিপশুও মারা যায়।

আরও পড়ুন:  আ’লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ভীড়ে সামিল নায়িকারাও

চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, সন্দ্বীপ এবং কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সদর, চকরিয়া ও পেকুয়াসহ উপকূলের অন্তত ১৩টি উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়।

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। কর্ণফুলি নদীর তীরবর্তী কংক্রিটের বাঁধ ভেঙে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর ও বহির্নোঙরে থাকা অসংখ্য জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা নিখোঁজ হয়। প্রায় ১০০ টন ওজনের একটি ক্রেন স্থানচ্যুত হয়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। শত শত মাছ ধরার ট্রলার, ইঞ্জিনচালিত নৌকা সাগরে ভেসে যায়।

নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অনেক জলযানও ক্ষতির মুখে পড়ে। প্রায় ১০ লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা, যা প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় কম বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আরও পড়ুন:  ঘন কুয়াশায় ঢাকায় নামতে পারলো না আন্তর্জাতিক ১০ ফ্লাইট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *