২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছে, যা সম্প্রতি দেশটির লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও নিবিড় করার পাশাপাশি অমীমাংসিত বিষয়গুলো পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সমাধান করার এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা মোদির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণপত্র ও সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার এই অবস্থান ‘মানবিক বিবেচনা ও ভারতের দীর্ঘদিনের আশ্রয়দান নীতির’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে। পানিবণ্টন ইস্যুতে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ এ বছর শেষ হওয়ায় এর নবায়নকে দুই দেশের ‘অন্যতম অগ্রাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তিস্তা চুক্তির বিষয়েও একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় নয়াদিল্লি।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রমকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিবেদনে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে যার বড় অংশই চিকিৎসার জন্য। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন বলে মনে করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বজায় রাখতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছে ভারতের এই সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়াও লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ১২টি প্রকল্প বাতিল করে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।







