যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ বিমান কেনার কথা নিশ্চিত করল চীন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বেইজিং শীর্ষ সম্মেলনের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০টি বোয়িং জেট বিমান কেনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে চীন। বুধবার (২০ মে) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, এই চুক্তির আওতায় বিমান ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ও উপাদানের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের গ্যারান্টি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বের বৃহত্তম এই দুই অর্থনীতির দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর বেশ কিছু বাণিজ্য প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই ঘোষণা এলো। বিমান ক্রয়ের পাশাপাশি দুই দেশই গত অক্টোবর মাসে হওয়া শুল্ক যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

একই সঙ্গে উভয় দেশই পরস্পরের অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের পরপরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন, ঠিক তখনই চীনের পক্ষ থেকে এই বড় ঘোষণাটি এলো।

আরও পড়ুন:  রমনা বোমা হামলা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, ৯ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

চীন সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা চীনের সাথে দুর্দান্ত কিছু বাণিজ্য চুক্তি করেছি। এর মধ্যে বোয়িংয়ের ২০০টি বিমানের ক্রয়াদেশ রয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও ৭৫০টি বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি মিলেছে, যা এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ অর্ডার হতে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের এই চীন সফরে মার্কিন প্রতিনিধি দলে বোয়িং-এর প্রধান নির্বাহী কেলি ওর্টবার্গ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক এবং এআই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। সফল সফর শেষে বোয়িং এক বিবৃতিতে জানায়, চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বোয়িং বিমানের জন্য চীনের বাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা। প্রাথমিকভাবে ২০০টি বিমানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে এবং প্রথম কিস্তির পর আরও বড় অর্ডার আসবে বলে তারা আশা করছেন।

আরও পড়ুন:  তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদ্ঘাটন সূর্যের মতন’

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প-শি বৈঠকের পূর্বে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে দুই দেশের কর্মকর্তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছান, যার ফলে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত শুল্ক যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। ওই চুক্তির আওতায় চীনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক হ্রাস করা হয়েছিল এবং এর বিপরীতে বিরল খনিজ ও চুম্বক রপ্তানির ওপর বেইজিংয়ের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাও স্থগিত করা হয়।

সূত্র: বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *