এক মিনিটের মধ্যে খামেনিসহ ৩০ নেতা নিহত হন: ইসরায়েলি গণমাধ্যম

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের মোট ৩০ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। দেশটির গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার প্রথম আঘাত হানার এক মিনিটের মধ্যে এসব ব্যক্তিরা প্রাণ হারান। 

চ্যানেল-১২ এর ওয়েবসাইট এন১২-তে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহল জোর দিয়ে বলছে, তারা অভিযান কেবল শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিন অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যান্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিবিড় পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার কথা গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে।

তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ইয়োভ লিমোর সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে শিগগিরই মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। এই সংঘাত কয়েক দিন বা সপ্তাহ, এমনকি আরও দীর্ঘ সময় চালিয়ে নেওয়ার মতো ধৈর্য ও প্রস্তুতি ইসরায়েলের থাকলেও ট্রাম্পের সেই ধৈর্য বজায় থাকবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

আরও পড়ুন:  রাজধানীতে বজ্রসহ শিলা-বৃষ্টি

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনোথ’ বলছে, আমেরিকার জন্য এটি পছন্দের যুদ্ধ। কিন্তু ইসরায়েলের জন্য এটি প্রয়োজনের। এই গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন থাকার পরও মার্কিন জনমত ইসরায়েলের বিপক্ষে চলে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।

দ্বিতীয় দিনে পাল্টাপাল্টি হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের দ্বিতীয় দিনেও ইরানে হামলা অব্যাহত আছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নতুন করে হামলা শুরু করেছে। এবারের অভিযানের লক্ষ্য তেহরানের শীর্ষ নেতারা। পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানও।

তেহরানের হামলা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মর্কিন মিত্র দেশগুলোকেন্দ্রিক। প্রকাশিত কিছু ছবির বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বাহরাইনের রাজধানী মানামা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের জাবেল আলি বন্দরে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। আর আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদেও নতুন করে হামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন ড. ইউনূস

ওমানে রোববার দেশটির একটি বন্দরে ড্রোন হামলায় এক কর্মী আহত হয়েছেন। পৃথক একটি হামলায় তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে থাকা চারজন ক্রু আহত হয়েছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, পাইলটরা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সফলভাবে হামলা করেছেন। এই অঞ্চলের সমস্ত ‘শত্রু সামরিক ঘাঁটি’ এখন ইরানি বিমান বাহিনীর আওতার মধ্যে আছে।

দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, ‘ইরান আজ শোকাহত। কিন্তু এই শোক নিষ্ক্রিয়তার শোক নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভেবেছিল সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করে একটি জাতির আত্মাকে কাঁপিয়ে দেবে। কিন্তু ইসলামি বিপ্লব শাহাদাতের মাধ্যমে আরও বেশি সুদৃঢ় হয়।’ বর্তমান কৌশল নিয়ে রেজা আরেফ বলেন, এখন জাতীয় স্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ সংহতি রক্ষা করা মূল কাজ।

আরও পড়ুন:  হামলায় জড়িত সবাইকে শাস্তি দেওয়া হবে; পুতিনের হুঙ্কার

এদিকে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ১ হাজার ২০০ বোমা নিক্ষেপ করেছে। প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ বলছে, একবার আকাশপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে আরও বিস্তৃত পরিসরে হামলা করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *