গত কয়েকদিনে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর এই অঞ্চলে এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় বিমান শক্তি সমাবেশ বলে জানা গেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ ইরাকে বিমান হামলা এবং ২০ মার্চ থেকে স্থল হামলা শুরু করেছিল। প্রায় আট বছর ধরে চলা বিধ্বংসী ওই যুদ্ধ ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। ওই আগ্রাসনের পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করেছে মার্কিন প্রশাসন।
গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে দেশটিতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জড়ো করছে দেশটি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালালেও মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সেই আলোচনায় তেমন অগ্রগতি হয়নি।
একইসঙ্গে ইরানে হামলা চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। আগামী শনিবারের মধ্যেই এই হামলা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে অঞ্চলটিতে ডজনখানেক যুদ্ধবিমান এবং একাধিক বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে। মোতায়েন করা যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫।
সূত্রমতে, গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে, সামরিক বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে অভিযানের জন্য প্রস্তুত। এমনকি মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ এ সপ্তাহান্তেই পারস্য উপকূলে পৌঁছাতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যিম অ্যাক্সিওসের বুধবারের তথ্য অনুযায়ী, এফ-৩৫ লাইটনিং টু, এফ-২২ র্যাপ্টর এবং এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনসহ গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে ৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।







