‘রিসেট বাটনে’ বিভ্রান্তদের ব্যাখ্যা- প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘রিসেট বাটন’ চাপা সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা আলোচনা ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ফেসবুকে প্রধান উপদেষ্টার দফতরের ভেরিফায়েড পেজে এই ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ড. ইউনূসের ‘রিসেট বাটন’ মন্তব্যের অর্থ ছিল দেশের পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সংস্কার এবং নতুনভাবে গোছানো। বক্তব্যটির মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটি রূপক ব্যাখ্যা প্রদান করা।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই বক্তব্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করছেন, যা দেশে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

আরও পড়ুন:  তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে সরকার এখনো কিছু জানে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

এতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রিসেট বাটন চাপার কথাটি উল্লেখ করে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতি, যা বাংলাদেশের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে, অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে এবং কোটি মানুষের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার হরণ করেছে, সেটি থেকে বের হয়ে এসে নতুনভাবে শুরু করার কথা বুঝিয়েছেন। তিনি কখনোই বাংলাদেশের গর্বিত ইতিহাস মুছে ফেলার কথা বলেননি। এখানে উল্লেখ্য যে, কেউ যখন কোনো ডিভাইসে রিসেট বোতাম চাপেন, তখন তিনি নতুন করে ডিভাইসটি চালু করতে সফটওয়্যার সেট করেন। এতে হার্ডওয়্যার পরিবর্তন হয় না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের হার্ডওয়্যার।

এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎকার ঘিরে কেউ কেউ ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতে ঢাকায় আসার পর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে জনগণ নেতৃত্ব দিয়েছে। এটি আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। প্রথম স্বাধীনতা ১৯৭১ সালে দেশের গৌরবময় স্বাধীনতা যুদ্ধ।

আরও পড়ুন:  সন্তুষ্ট কোচ হেম্প: ব্যাটারদের ভালো অনুশীলনেই

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালে অধ্যাপক ইউনূস মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই তিনি বাংলাদেশ সিটিজেনস কমিটি গঠন করেন এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন সরকারকে রাজি করানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী প্রচারণা শুরু করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কে বিশ্বকে অবহিত করার জন্য তিনি বাংলাদেশ নিউজলেটার প্রকাশ করেছিলেন।

…….ডিডিজে নিউজ/এম এফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *