নির্যাতনের পর ৬০ জেলেকে ফেরত দিল মিয়ানমার নৌবাহিনী

কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া ৬০ জন বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমার নৌবাহিনী, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ঘটনাটি উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মাধ্যমে তাদেরকে ফেরত আনা হয়। তবে এই ঘটনার সময় মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে একজন জেলে নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন, যা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। নিহতসহ ১১ জনকে ফেরত আনা হয়েছে, এবং ৪৯ জন জেলেকে ট্রলারসহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আলোচনাকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে উভয় দেশের জেলেরা নিরাপদে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে এবং এ ধরনের মানবিক সংকট এড়ানো যায়। এর আগে মায়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে আহত দুজনকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

নিহত জেলের নাম মো. ওসমান গণি। তিনি শাহপরীর দ্বীপের কোনারপাড়া এলাকার বাঁচা মিয়ার ছেলে। গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন, শাহপরীরদ্বীপ বাজার পাড়ার বাসিন্দা রাজু ও আরেকজন মাঝের পাড়া মো. রফিক।

আরও পড়ুন:  লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন ড. ইউনূস

ট্রলারের মালিক মো. কায়সার বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি মাছ শিকারেরসময় নাইক্ষ্যংদিয়া সংলগ্ন অংশে মিয়ানমার নৌবাহিনীর একটি জাহাজ আমার ট্রলারে অতিক্রম করে। তারা সংকেত দিয়েছিল জেলেরা ভয়ে যায়নি তাদের কাছে। এজন্য সে নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে হঠাৎ আমার ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে আমাদের এক জেলে মারা গেছে, আর দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়। আমরা নাফ নদের বাংলাদেশের জলসীমায় ছিলাম এবং হাত উঁচু করে বাংলাদেশি পতাকা দেখিয়ে তাদের গুলি না করতে ইশারা করছিলাম। এরপরও তারা মানেনি; গুলি করতে থাকে।’

অপর ট্রলার মালিক মতিউর রহমান জানান, মিয়ানমার নৌবাহিনী ধরে নিয়ে যাওয়া ট্রলারসহ মাঝি-মাল্লাদের ফেরত দিয়েছেন। আমাদের ট্রলারে থাকা মাছ ও টাকা-পয়সা লুটপাট করেছে এবং প্রচুর মারধর করছে।

আহত জেলে মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘অলি আহমেদ ট্রলার নিয়ে গত চার দিন আগে ১০ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাই। বুধবার ভোরে সাগরে মিয়ানমারের অংশ অবস্থান নেওয়া মিয়ানমারের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ সংকেত দিয়ে তাদের দিকে যেতে বলে। ওটা মিয়ানমারের জলসীমা হওয়ায় তারা সেন্টমার্টিন দ্বীপের দিকে চলে আসতে থাকে। এ সময় পরপর গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হন। আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন, অন্যরা অক্ষত আছে।’

আরও পড়ুন:  ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ

ফিরে আসা আরেক জেলে করিম উল্লাহ বলেন, ‘বুধবার দুপুর ২টার দিকে সেন্টমার্টিন অদূরে আমরা ৬টি ট্রলার এক সঙ্গে মাছ শিকার করছিলাম। হঠাৎ মিয়ানমার নৌবাহিনী আমাদের ট্রলারকে তাদের কাছে যেতে সংকেত দেন। ছয়টি ট্রলারের মধ্যে পাঁচটি ট্রলার তাদের কাছে গেলে প্রথমে ট্রলারে থাকা মাছ ও মোবাইল, টাকা পয়সা নিয়ে নেয় এবং অমানবিক নির্যাতন করে আমাদের ওপর। পরে কায়সারের মালিকানাধীন ট্রলারকে কাছে আসার সংকেত দিলে তারা উল্টো ট্রলার চালালে তখন তাদের ওপর গুলি বর্ষণ করে এতে একজন মারা যায়, বাকি দুজন গুলিবিদ্ধ হয়।’

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি মাছ শিকার করে ফেরার সময় একটি ট্রলারকে গুলি করে মিয়ানমার নৌবাহিনী। ট্রলারে থাকা একজন জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিহত জেলেকে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:  বুধবার থেকে রাত ৯টার পরও চলবে মেট্রোরেল

এ ব্যাপারে বিজিবির টেকনাফস্থ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ জানান, সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমারের সীমান্তে নৌবাহিনীর গুলিতে এক জেলে নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতসহ জেলেদের বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জেনেছি।

 

…….ডিডিজে নিউজ/এম এফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *