পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে মাঠে দুদক, সঙ্গে এফবিআই

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কার্যক্রমকে আরও জোরদার করেছে। প্রায় এক লাখ কোটি টাকা পাচারের তদন্তে দুদককে সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) একটি দল বাংলাদেশে আসছে।

এফবিআইয়ের লিগ্যাল অ্যাটাচে রবার্ট ক্যামেরুন ও সুপারভাইজার স্পেশাল এজেন্টের একটি দল দুদকের মানিলন্ডারিং এবং লিগ্যাল শাখার মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধের জন্য দুদকের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। দুদক এফবিআইকে তাদের কার্যক্রম, আইনগত কাঠামো, এবং বর্তমান অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করবে।

দুদকের একজন মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে দুদক ইতিমধ্যে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে কিছু সফলতা অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দিয়ে এই প্রচেষ্টা আরও সফল হতে পারে। তিনি বলেন, ‘বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে সংস্থাটির কোনো সাহায্য নেওয়া যায় কিনা সে বিষয়ে আমাদের কথা হবে। এছাড়া যৌথ টাস্কফোর্স নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দুদকের সঙ্গে এফবিআইসহ একাধিক বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয়।’

আরও পড়ুন:  দেশ-বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে খরচ কমলো

এদিকে রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সভা শেষে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘টাস্কফোর্সের কর্মপদ্ধতি কী হবে, কারা থাকবে, এর প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। কিছুদিনের মধ্যে এই টাস্কফোর্স দৃশ্যমান হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যাংক খাতের সংস্কারে আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।’

সরকারের বিশেষ টাস্কফোর্সে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, অর্থ বিভাগ, এনবিআর, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইত্যাদি সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকছেন বলেও জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *