ঝরা পল্লবের মতো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ঝরে পড়েছে ২০২৩। ফেলে আসা বছরটি এখন ‘পুরোনো সেই দিনের কথা’। নিশি অবসান, ওই পুরাতন বর্ষ হয় গত! মহাকালের অমোঘ নিয়মে ইতিহাসের পাতা থেকে বিদায় নিল আরেকটি বছর। নববর্ষকে আহ্বান জানানোর মাধ্যমে ফুরালো গত বছরের সব লেনদেন। বিদায় ২০২৩। আরও একটি বছর মহাকালের গর্ভে আশ্রয় নিল। দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন আশায় স্বাগত ২০২৪ সালকে।
কানাডায় ১ জানুয়ারির প্রথম প্রহরে মুহুর্মুহু আতশবাজি ফুটতে দেখা গেছে আকাশে। আতশবাজির ঝলকানিতে রঙিন হয়ে ওঠে রাতের আকাশ। সন্ধ্যার পর থেকে রাস্তায় রাস্তায় ছিল পুলিশ চেক পোস্ট। নগরবাসীকে নিরাপত্তা দিতে তাদের তৎপরতা ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা।
কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে বিভিন্ন শহরের ট্রানজিট বাস, সাবওয়ে, গো বাস, ট্রেন, ইইউ এক্সপ্রেস নাগরিকদের জন্য ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে নাগরিকরা রাতভর যাতে এখানে-সেখানে আনন্দ করে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন তার জন্যই এই ব্যবস্থা। নিউ ইয়ার্স সেলিব্রেশনে অনেকে মদপান করেন, মদপান করে যাতে গাড়ি চালাতে না হয়, সে জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ফ্রি করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে নিউ ইয়ার উপলক্ষে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে টরন্টো সিটি কর্তৃপক্ষ। ডাউন টাউনের ওয়াটারফ্রন্টে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য কনসার্টের। রাত ১০টা থেকে সেই অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলেছে মধ্যরাত অবধি। এর আগে সাড়ে ১১টায় শুরু হয় কাউন্ট ডাউন। মধ্যরাতে শুরু হয় শহরের সবচেয়ে বড় ফায়ার ওয়ার্কস। হাজার মানুষের ঢল নামে এই সেলিব্রেশনে। ইতিমধ্যে সিটি জানিয়ে দিয়েছে- শহরের অন্যান্য কয়েকটি পয়েন্ট থেকেও এই ফায়ারওয়ার্ক দেখা যাবে।
অন্যদিকে, সিটি লাইভস্ট্রিম করে পুরো আয়োজন। টেলিভিশন, পত্রিকাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করে পুরো অনুষ্ঠান। তবে সরকারি টেলিভিশন সিবিসি এবার সিটির নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন লাইভস্ট্রিম করেনি। আর্থিক সংকটের কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে।
টরোন্টো শহরের নানা জায়গায় ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ফায়ার ওয়ার্কস হয়েছে। তবে সেগুলো যথাযথ নিয়ম মেনে হয়েছে। কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে প্রবাসী বাঙালিরা পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির সাথে নিজেদের সংস্কৃতিরও চর্চা অব্যাহত রেখে আনন্দ আয়োজনে ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।







