হ্যালোইন উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গুলির ঘটনা, নিহত ২৪

যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসব ঘিরে বিভিন্ন স্থানে বন্দুক হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯৪ জন।

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডেলাওয়্যার পর্যন্ত বিভিন্ন নাইট ক্লাব, পোশাকের দোকান, স্টেডিয়াম ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।রোববার (১ নভেম্বর) দেশটির পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা হতাহতের এ তথ্য জানান।

ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকার হামলাগুলো। সেখানে প্রায় ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক বন্দুক হামলায় অন্তত চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

হামলাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে পৃথক দুটি হামলায় ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী ও ২০ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন। মিসিসিপির জ্যাকসনের একটি নাইট ক্লাবে বন্দুক হামলায় প্রাণ গেছে দুজনের। আহত হয়েছেন আরও চারজন।

আরও পড়ুন:  যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আরও গভীর করতে চান প্রধান উপদেষ্টা

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পোশাকের দোকানে বন্দুকধারীর হামলায় চার সন্তানের এক অন্তঃসত্ত্বা মা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। তাঁদের মধ্যে দুই কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে ডেট্রয়েটে হ্যালোইনের পোশাক পরা পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু বাড়িতে খেলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। ওকলাহোমা সিটিতে হ্যালোইন পার্টি চলাকালে একটি গাড়ির ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনার বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আলাবামার বার্মিংহামে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের বাইরে বন্দুক হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছে গুলিতে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হন। আহত হন আরও সাতজন। ইন্ডিয়ানার ব্লুমিংটনেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছে বন্দুক হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:  চীনা পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যালোইন উৎসবে বিপুল মানুষের বাইরে বের হওয়া, মদ্যপান ও মাদক গ্রহণের প্রবণতার সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা যুক্ত হয়ে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞানী জেমস অ্যালান ফক্সের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বছরের সবচেয়ে সহিংস দিনগুলোর তালিকায় ৩১ অক্টোবরের অবস্থান তৃতীয়। তার বিশ্লেষণে এ দিনের আগে রয়েছে ৪ জুলাই ও ১ জানুয়ারি।

তবে এবারের হ্যালোইনে সহিংসতার মাত্রা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বেশি কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডালাসের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো বলেন, হ্যালোইন ও শনিবার রাতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এরপরও এ ধরনের সহিংসতাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × four =