এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের দাফন

সন্ধ্যার আগেই কবর খোঁড়া শেষ হয়েছে। বাড়ির সামনে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে কয়েকটি পুরোনো কবর। তার পাশেই খোঁড়া হয়েছে আরেকটি কবর। অপেক্ষা শুধু মরিয়ম খাতুনের মরদেহ আসার। স্বজনেরা বলছেন, মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতে রাত হয়ে যাবে। মরদেহ পৌঁছালেই দ্রুততম সময়ে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের কিনারা ঘেঁষে ইটের সড়কটি চলে গেছে সরদারপাড়ার ভেতরে। সেই সড়কের পাশেই মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর বাড়ি।

আজ সোমবার সন্ধ্যার আগমুহূর্তে দেখা যায়, বাড়ির সামনে কয়েকজন নারী জটলা করে দাঁড়িয়ে আছেন। মরিয়মের মৃত্যু, ঢাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং মরদেহ বাড়িতে আসা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন তারা।

আরও পড়ুন:  ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা

বাড়ির সামনে পারিবারিক কবরস্থানে নতুন কবরটি খোঁড়া হয়েছে। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে খেজুরগাছের কয়েকটি ভাঙা ডাল। বাড়ির ভেতরে শোকের পরিবেশ। স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন ঢাকায় থাকা মরিয়মের মরদেহের জন্য।

বাড়ির ভেতরে মরিয়মের চাচা মিলন সরদারের ঘরের সামনে কয়েকটি চেয়ার পাতা। সেখানে বসে আছেন কয়েকজন নারী। তাদের মধ্যে মরিয়মের চাচি মুন্নী খাতুন বলেন, ‘তার স্বামী মিলন সরদার প্রবাসে থাকেন। বাড়িতে তিনি থাকায় মরিয়মের মরদেহ আসা থেকে শুরু করে দাফনের প্রস্তুতির দায়িত্ব তাকেই সামলাতে হচ্ছে।’

অ্যাম্বুলেন্সে থাকা স্বজনরা জানান, পদ্মা সেতু পার হয়ে খুলনার কয়রা হয়ে সড়কপথে ফিরছেন। এরপর কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে গাবুরার বাড়িতে যেতে হবে। ফলে মরদেহ পৌঁছাতে অনেক রাত হয়ে যাবে। মরদেহ পৌঁছাতে অন্তত রাত ১২টা বাজবে। অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহের সঙ্গে নয়জন লোক আছেন। তারা এসে খাওয়াদাওয়া করবেন। তাদের জন্য রান্না করে রেখেছেন। মরদেহ পৌঁছালে আর দেরি করবেন না তারা। সব প্রস্তুত আছে। রাতেই গোসল, জানাজা শেষ করে দাফন করা হবে।

আরও পড়ুন:  একটি দল ছাড়া সবাই উগ্রবাদী,ভারতের এমন কথা পরিবর্তন প্রয়োজন

প্রসঙ্গত, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে থেকে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ওবায়দুর পলাতক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five − 2 =