টাইফুনের প্রভাবে বিপর্যস্ত জাপান, ১৯ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’-এর প্রভাবে জাপানের পূর্ব উপকূলজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ১৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক শহরে বৃষ্টিপাতের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে গেছে।

চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এটি ২৫তম টাইফুন। তবে স্থানীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুজুয়ান সরাসরি জাপানের স্থলভাগে আঘাত হানবে না। বরং দেশটির পূর্ব উপকূল ঘেঁষে এগিয়ে যাচ্ছে ঝড়টি। তবু এর অগ্রভাগে থাকা অতি ভারী বৃষ্টির মেঘ দক্ষিণ-পূর্ব হোনশুতে প্রবেশ করায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে টাইফুনের সর্বশেষ অবস্থান ও সতর্কতা হালনাগাদ করে।

উপকূলের কাছে শক্তিশালী ঝড়
জেএমএ’র তথ্যানুযায়ী, টাইফুন দুজুয়ানের কেন্দ্র ইজু দ্বীপপুঞ্জের পূর্বদিকে সমুদ্রের ওপর অবস্থান করছিল। ঝড়টির স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪৩ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ দমকা বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে।

আরও পড়ুন:  প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

তবে সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাস এখনও সমুদ্রের ওপরই রয়েছে। দক্ষিণ ও পূর্ব হোনশুর বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ১২৬ কিলোমিটার বেগে স্থায়ী বাতাস এবং এর চেয়েও বেশি গতির দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া সংস্থা।

দুজুয়ান সরাসরি স্থলভাগে আঘাত না হানলেও এর অগ্রবর্তী অংশের ভারী বৃষ্টির প্রভাব ইতোমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব হোনশুতে পড়তে শুরু করেছে।

রেকর্ড বৃষ্টি, ভূমিধসে চাপা পড়ার আশঙ্কা
টাইফুনের প্রভাবে জাপানের বেশ কয়েকটি শহরে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙে গেছে। রাজধানী টোকিওসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা কমে এলেও একাধিক স্থানে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কানাগাওয়া এলাকায় ভূমিধসে একটি বাড়ি ধসে পড়ার পর সেখানে এক নারী জীবিত অবস্থায় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন দমকলকর্মীরা। তাকে উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

আরও পড়ুন:  যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

অন্যদিকে চিবা এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করার সময় এক ব্যক্তি আটকা পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিদ্যুৎহীন ৫০ হাজারের বেশি পরিবার
টাইফুনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ৫০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। প্রায় ১৯ লাখ মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের উচ্ছেদ বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

জাপানের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি ভূমিধসপ্রবণ পাহাড়ি এলাকা, নদীর তীর ও নিচু অঞ্চল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে ঝড়ের তীব্রতা
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ বছর একের পর এক শক্তিশালী ঝড় তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি বছরের শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় ঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:  টোকিওতে রানওয়েতে সংঘর্ষের পর উড়োজাহাজে আগুন, নিহত ৫

উষ্ণ সমুদ্র থেকে বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত তাপ ও জলীয়বাষ্প যুক্ত হওয়ায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়গুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। টাইফুন দুজুয়ানকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলতি বছরের শক্তিশালী ঝড়গুলোর সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুজুয়ান সরাসরি জাপানের স্থলভাগে আঘাত না করলেও এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাস ও ভূমিধসের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। ফলে ঝড়টি উপকূল থেকে দূরে সরে না যাওয়া পর্যন্ত জাপানের পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 4 =