বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত: জয়সওয়াল

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর, জ্বালানি সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ভারতের প্রত্যাশা হলো—পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখা।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন এবং তাঁকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ভারতের অবস্থান পুনরায় বলার প্রয়োজন নেই। প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের অনুরোধ ভারতের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে শনিবার ঢাকায় সমাবেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন করা হয় ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রকে। জবাবে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তিনি তা জানাবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় জ্বালানি চাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনের প্রসঙ্গেও কথা বলেন জয়সওয়াল। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা চলমান রয়েছে। তবে অতিরিক্ত জ্বালানির অনুরোধের বিষয়ে ভারত নিজেদের প্রয়োজন, পরিশোধন সক্ষমতা এবং নিজস্ব জ্বালানি প্রাপ্যতা বিবেচনা করে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

এ সময় আবারও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষণ দলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের (একিউআইএস) অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার প্রসঙ্গও উঠে আসে ব্রিফিংয়ে।

আরও পড়ুন:  প্রধানমন্ত্রী কাল ২১-২২ অর্থ বছরের জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করবেন

এ বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা এমন বিষয়, যা সবার জন্য উদ্বেগের হওয়া উচিত। এটি সবার জন্যই একটি অভিন্ন সমস্যা এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জয়সওয়াল বলেন, জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যারা লালকেল্লায় সন্ত্রাসী হামলার পেছনে থাকা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সব মিলিয়ে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যর্পণ, জ্বালানি সহযোগিতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে নয়াদিল্লির নিজস্ব প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তাগত বিবেচনার কথাও স্পষ্ট হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × one =