এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ৫১ হাজার অভিবাসী আটক

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গত এক মাসে প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড

শনিবার (৮ আগস্ট) ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিইর প্রকাশিত তথ্য ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে সংস্থাটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল প্রায় ৪৩ হাজার, যা জুনে হয়েছিল। ফলে টানা দুই মাসে আইসিই নতুন গ্রেপ্তার রেকর্ড গড়ল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর দেশজুড়ে অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের লক্ষ্যে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন:  নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন সিইসি

দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযানের মাত্রা বেড়েছে। জর্জিয়ায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিবাসন অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে বিমানবন্দরগুলোতেও ৩০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিবাসনবিষয়ক অভিযান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে জুন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানকে অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সরিয়ে দেয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের কমিউনিটি থেকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের। তার দাবি, অপরাধীদের সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  গ্রিনকার্ড থাকলেই নিশ্চিন্ত নন, যুক্তরাষ্ট্রে শুরু নতুন নজরদারি

তবে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক অভিযানে এমন ব্যক্তিরাও আটক হয়েছেন, যাদের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই। কারও কারও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতিপত্র বা প্যারোলের নথিও ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 1 =