ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় আবারও হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে যখনই তেহরান কোনো জাহাজে গুলি চালাবে, তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে বোমা হামলা চালাবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

বুধবার (২২ জুলাই) ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে লিখেন, ‘এখন থেকে যখনই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো ডিভাইস বা অস্ত্র দিয়ে গুলি চালাবে, তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বোমা মেরে ধ্বংস করবে।’

ট্রাম্প বলেন, এর মধ্যে রাজধানী তেহরানের পাশে বা ভেতরে অবস্থিত ইরানি স্থাপনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উপসাগরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনার দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার জন্য একটি বিমান ঘাঁটিতে যাওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্পের এই হুমকি এলো।

আরও পড়ুন:  ২০-২৫ জনের বহর নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন ড. ইউনূস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আমাদের বীরদের সম্মান জানাতে যাচ্ছি, তারা সত্যিই মহান বীর।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সবাই খুব দৃঢ়ভাবে বলেছিল যে, আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দিতে পারি না, তাই আমরা তাদের সম্মান জানাতে যাচ্ছি… প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি করা আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি, তবে এটি করতেই হবে।’

এদিকে, নভেম্বরে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের কাছে তিনি জনপ্রিয় নন এবং তেলের দাম বৃদ্ধি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে ইন্ধন জোগাচ্ছে—এমন জনমত জরিপগুলো প্রত্যাখান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ইতিমধ্যে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকানরা গ্যাসের উচ্চ মূল্য চায় না তবে তারা যুদ্ধের বিরুদ্ধে নয়, এটি বেশ স্পষ্টভাবেই প্রকাশ পেয়েছে।’

আরও পড়ুন:  জাকসু নির্বাচন বর্জন করল ছাত্রদল

হরমুজ প্রণালি নিয়ে লড়াইয়ের মধ্যেই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ওপর টানা ১১ দিন ধরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জবাবে ইরান উপসাগরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ডেলাওয়্যারের ডোভার বিমান ঘাঁটিতে বুধবারের মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানটি ছিল জর্ডানের ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত দুই সেনা সদস্য এবং ইরাকে ড্রোন নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে নিহত এক সেনা সদস্যের জন্য। তাছাড়া, জর্ডান হামলায় তৃতীয় এক সেনাসদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ বহুগুণে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি জোরদার করেছেন। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৮তে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন:  মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল চীন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন (ইরানিরা একে কোলাং পর্বত বলে ডেকে থাকে) নামে ইরানের একটি গোপন পারমাণবিক কমপ্লেক্সে হামলা চালানোর হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইরান এই স্থানে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × two =