ভেনিজুয়েলার বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকার বলছে, ভূমিকম্পের পর সাড়ে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাস করছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।
গত ২৪ জুন সন্ধ্যায় পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প দুটি কারাকাস এবং উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরাতে আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এর আগে শনিবার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ভাই ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পের আগে যেসব অ্যাপার্টমেন্টের নির্মাণকাজ চলছিল, সেগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বরাদ্দ দেওয়া শুরু করবে সরকার।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল তার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে সাহায্যের একটি চালান এসে পৌঁছেছে। মার্কিন দূতাবাসও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণের তথ্য জানিয়েছে।
ভেনিজুয়েলায় মানবিক সহায়তা রাশিয়ার
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনিজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। খাদ্য ও জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে রাশিয়ার প্রথম মানবিক সহায়তাবাহী বিমান দেশটির রাজধানী কারাকাসে পৌঁছেছে। শিগগিরই আরও একটি ত্রাণবাহী বিমান পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মানবিক সহায়তা বহনকারী বিমানটি কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই মেলিক-বাগদাসারভ এবং ভেনিজুয়েলার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবেন দারিও মোলিনা পেনা ত্রাণবাহী বিমানটি গ্রহণ করেন।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই মেলিক-বাগদাসারভ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভেনিজুয়েলার জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, ‘দুটি ভূমিকম্পের মর্মান্তিক পরিণতিতে ভেনিজুয়েলার ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের শোকের অংশীদার রাশিয়া। এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পিছপা হতে পারি না।’ রাষ্ট্রদূত আরও জানান, এটি রাশিয়ার পাঠানো প্রথম মানবিক সহায়তাবাহী বিমান। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অতিরিক্ত ত্রাণ নিয়ে আরেকটি বিমানও অচিরেই ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাবে।
ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, এই চালানে খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ পাঠানো হয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে এসব সামগ্রী ব্যবহার করা হবে।







