যাত্রী চেকিং ইউনিট ও ইমিগ্রেশন পুলিশের তৎপরতায় হোঁচট খেয়েছে মানবপাচার চক্র। এতে ‘বডি কন্ট্রাক্টে’ মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে ৭৬ যাত্রীর।
শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে মোট ২৮৮ জন যাত্রী টিকিট কাটে। কিন্তু চেক-ইন কার্যক্রমের সময়ই কাগজপত্রে সমস্যা থাকায় পাঁচজনকে বোর্ডিং গেটে আটকে দেয়া হয়। পরে ইমিগ্রেশন বিভাগ ১০ জনকে অফলোড করে। এ ঘটনার তথ্য ছড়িয়ে পড়লে বোর্ডিং পাশ নিলেও পরে ইমিগ্রেশন পর্যন্ত না গিয়ে ৬১ জন যাত্রী বিমানে উঠেননি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, বোর্ডিং গেট ও ইমিগ্রেশন ১৫ জনকে আটকে দেয়ার পর আরও ৬১ জন যাত্রী ছাড়াই ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া চলে যায় ফ্লাইটটি। আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেয়ার দায়িত্ব নেই বিমানের। এটা আইনি সংস্থা দেখবে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বিমান সংস্থার চেক-ইন কাউন্টার থেকে ভিসা যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাদের ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে বোর্ডিং পাস দেয়া হয়েছিল। পরে ইমিগ্রেশনও বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। তবে বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের ভিসা জাল বা অবৈধ হিসেবে শনাক্ত হয়।
এদিকে ভিসা যাচাইয়ের একাধিক ধাপ অতিক্রম করার পরও কীভাবে সন্দেহভাজন জাল ভিসাধারীরা চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন পার হয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এমন সন্দেহে আজ রোববারও ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনন্সের রাত সোয়া ৯টার বিজি৩৮৬ ফ্লাইটে একজন যাত্রীকে সন্দেহভাজন হওয়ায় আটকে দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বাকি ১৫৭ যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করে বিমানটি।







