চলে গেলেন বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। বাংলাদেশের পাপেটশিল্পের এই পথিকৃতের প্রয়াণে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া।
শোক প্রকাশ করে জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় মুস্তাফা মনোয়ার আমার মন্টু মামা। তাঁর গভীর ভালোবাসা এবং অসংখ্য গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমি অতি আপনজনকে হারালাম। দেশমাতা হারাল অমূল্য সন্তান। মন্টু মামার প্রতি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি।’
অভিনেত্রী ও নির্দেশক নিমা রহমান বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার আমার ছোট মামা। তিনি আসলে আমার গুরু। ছোটবেলা থেকে তাঁর কাছে আমার সবকিছু শেখা, কবিতা বলা, কথা বলা, উচ্চারণ—সব।’
অভিনেতা তারিক আনাম খান বলেন, ‘তিনি তো শিল্পের অনেক বিষয়ে জানতেন। সে কারণেই তাঁকে নির্দিষ্ট ফ্রেমে বেঁধে না রেখে বলা হয় শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর মতো শিল্পীর চলে যাওয়া আমাদের জন্য একটা বড় ক্ষতি। বাংলাদেশের জন্য একটা শূন্যতা।’
নির্মাতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমাদের শিল্পকলাজগতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বরেণ্য চিত্রকর এবং আধুনিক টেলিভিশনের রূপকার মুস্তাফা মনোয়ার অনন্তের পথে যাত্রা করেছেন। তাঁর প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত, পুরো চ্যানেল আই পরিবার আজ স্তব্ধ ও ম্রিয়মাণ। তিনি কেবল তুলির টানে ক্যানভাসেই প্রাণসঞ্চার করেননি, বরং এ দেশের ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচকে (পাপেট্রি) বিশ্বমানের শিল্পকলার এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। টেলিভিশনের সাদাকালো যুগ থেকে শুরু করে আধুনিক রূপান্তরের প্রতিটি স্তরে তাঁর সৃজনশীল হাতের স্পর্শ রয়েছে।’
অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বিদায় শ্রদ্ধেয় শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। অনন্তলোকে চিরশান্তিতে থাকুন। বিনম্র শ্রদ্ধা।’
নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘মহান শিল্পী, শিল্পগুরু, মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফা মনোয়ারের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানাচ্ছি। একজন মুস্তাফা মনোয়ার শতবর্ষে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর শূন্যতা কোনো দিন পূরণ হবার নয়।’
নাট্যকার মাসুম রেজা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার শিল্পের বহুধা শাখায় রাজত্ব করেছেন। শিখিয়েছেন তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থীকে, শিখিয়েছেন চিত্রকলা, পাপেট্রি, নাটক নির্মাণ, নাটক রচনার কৌশল। নন্দনতত্ত্বের বিস্তৃত অনুধাবন ও অনুশীলন তাঁকে করে তুলেছিল শিল্পের মহারাজ। আমাদের প্রজন্মের শিক্ষকদের তিনি ছিলেন শিক্ষক। তাঁকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
‘হাওয়া’ ও ‘রইদ’খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘শৈশবে আমার ছবি আঁকার স্বপ্ন এঁকে দিয়েছিলেন তিনি।’
নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল লিখেছেন, ‘শিশুদেরকে একটি স্বপ্নময় শৈশব উপহার দেওয়ার কারিগরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা।’
অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘চলে গেলেন পরম শ্রদ্ধেয় গুণীজন, মুস্তাফা মনোয়ার স্যার। পুতুলে প্রাণের আনাগোনা! সেসব গল্পের চমৎকার ভুবন! শিল্পের সাথেই বসবাস ছিল, ছিল হাজারো রং, ভাবনা, সেই শিল্পের বাস্তবায়ন। ১৯৯৪ সালে আমিও কিছুদিন তাঁর সাথে এই অদ্ভুত শিল্প সংসারে কাজ করেছি। কথা বলেছি এই পাপেটের কণ্ঠে। কী দারুণ কৌশল! দেখেছি-শিখেছি অনেক কিছু।’
অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা লিখেছেন, ‘আপনি আমার জীবনে ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা। আমার ছোটবেলা “মনের কথা”র (অনুষ্ঠান) জন্য সুন্দর ছিল।’







